পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রির ঊর্ধ্বসীমা তুলে নিল রাজ্য সরকার। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ডিজেল বিক্রিতে যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তুলে নেওয়ার বিষয়টি তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে একথা জানিয়েছেন। 

পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রির ঊর্ধ্বসীমা তুলে নিল রাজ্য সরকার। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ডিজেল বিক্রিতে যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তুলে নেওয়ার বিষয়টি তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে একথা জানিয়েছেন। এছাডা়ও, কন্টেইনারে (পাত্রে) ডিজেল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, সেটাও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত ১১ জুন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জারি করা একটি সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের খুচরা জ্বালানি কেন্দ্র (পেট্রোল পাম্প) থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কেনা নিষিদ্ধ করা হয়। এর পরিবর্তে তাদের নির্দিষ্ট 'বাল্ক সেল পয়েন্ট' বা পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও বলা হয়েছিল, কোনও প্লাস্টিকের বোতল বা কন্টেনারে তেল দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, এককালীন ২০০ লিটারের বেশি ডিজেল দেওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, "আমাদের সরকার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা এবং রাজ্যের অর্থনীতি কোনো বাধা ছাড়াই যেনো সুচারুভাবে এগোতে থাকে তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক কন্টেইনারে (পাত্রে) ডিজেল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে আমাদের পরিশ্রমী কৃষক ভাইরা, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কার্যক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেছে। আমরা প্রধান তেল কোম্পানিগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা এবং চা বাগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে জ্বালানির বিধিনিষেধের আওতা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই সমস্ত জরুরি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা ও গ্রাহকরা এখন থেকে কন্টেইনার বা ব্যারেলে সহজেই ডিজেল কিনে নিয়ে যেতে পারবেন এবং প্রতিদিন এই সকল গ্রাহকদের জ্বালানি প্রদানের ক্ষেত্রে যে সর্বাধিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল তাও শিথিল করা হয়েছে। নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে ডিজেল পাওয়ার জন্য পাম্পগুলোতে শুধুমাত্র প্রাথমিক পরিচয়ের নথিপত্র দেখালেই চলবে।"

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে পশ্চিম এশিয়ায় সৃষ্ট সংকটের ফলে জ্বালানির খরচ বেড়ে গিয়েছিল। সাধারণ গ্রাহকদের এই বাড়তি খরচের বোঝা থেকে বাঁচাতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রয়মূল্য সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত রাখার ফলে এই মূল্যের পার্থক্য তৈরি হয়। যেখানে টেলিকম টাওয়ার কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য প্রয়োজনে ডিজেল ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানার মতো বড় গ্রাহকদের বাজারদর অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে হয়, সেখানে খুচরা পাম্পগুলোতে বিক্রয়মূল্য প্রকৃত খরচের চেয়ে অনেক কম। ট্রাক পরিবহন সংস্থা এবং সরকারি বাস পরিষেবার মতো বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও তাদের প্রয়োজনে খুচরা পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে শুরু করায় কিছু এলাকায় চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে। মূল্যের এই পার্থক্যের কারণে বিক্রির ধরনেও পরিবর্তন এসেছে; যেসব বেসরকারি পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেশি ছিল, সেখান থেকে সরে এসে গ্রাহকরা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি কিনছেন। মে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি কোম্পানি—আইওসি (IOC), বিপিসিএল (BPCL) এবং এইচপিসিএল (HPCL)—পেট্রোল বিক্রিতে ৪.৮ শতাংশ এবং ডিজেল বিক্রিতে ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে।

Scroll to load tweet…