West Bengal Legislative Assembly: মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বিধানসভা কক্ষ মারামারি করার জায়গা নয়। বিধানসভায় শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্য জানাক। টানা ১১ মাস যেন বিরোধী দলের নেতাকে বিধানসভার বাইরে রাখা না হয়।" তবে শুভেন্দুর বক্তব্যের পাল্টা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব বলেন, “আপনারা বলেছিলেন, ভয় নয় ভরসা। কিন্তু আজ ভরসা নেই।"
West Bengal Legislative Assembly: অষ্টাদশ বিধানসভার অধিবেশন বসে শুক্রবার (West Bengal Legislative Assembly)। কার্যত, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। হাউজের প্রথা মেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে স্পিকারের আসন পর্যন্ত এগিয়ে দেন । তারপর স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন শুভেন্দু (west bengal legislative assembly news)।

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে বাকযুদ্ধ!
শুক্রবার, বিধানসভায় নতুন স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) এবং শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বিধানসভা কক্ষ একেবারেই মারামারি করার জায়গা নয়। বিধানসভার অন্দরে শাসক এবং বিরোধী, দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরুক। টানা ১১ মাস যেন বিধানসভার বিরোধী দলের নেতাকে বিধানসভার বাইরে রাখা না হয়। বিরোধী দলকে যোগ্য মর্যাদা দিয়ে বিধানসভার হাউজে তাদের বক্তব্যকে আরও বেশি করে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে।"

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বনাম বিরোধী দলনেতা শোভনদেব
তবে শুভেন্দুর বক্তব্যের পাল্টা বার্তা দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আপনারা বলেছিলেন, ভয় নয় ভরসা। কিন্তু আজ তো ভরসা নেই। বরং, ভয় বেড়ে গেছে চারগুণ। বহু মানুষ ঘরছাড়া। স্বৈরাচারী শাসকের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।”
সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভবানীপুরের বিধায়ক এবং পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “কেউ ঘরছাড়া আছে বলে তো জানা নেই। আর যদি কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকে, তাহলে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে অবশ্যই জানান। তবে ২০২১ সালে, ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস সংক্রান্ত যে সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর দায়ের হয়েছিল, সেখানে নাম না থাকলে স্থানীয় বিধায়ক এবং পুলিশ সুপার নিজে গিয়ে ঘরছাড়াদের নিশ্চয়ই বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। কিন্তু এফআইআর-এ নাম থাকলে নিঃসন্দেহে জেলে যেতে হবে।"

বক্তব্য রাখলেন ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান
অন্যদিকে, শুক্রবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পান ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “যেদিন আমি মুর্শিদাবাদের ডোমকল থেকে নির্বাচিত হয়ে বিধানসভায় এসে শপথ নিলাম, সেইদিনই আমি একটু বেশি আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি। আমি যে দলের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে এসেছি, সেই দলের বক্তব্য ছাড়া ভারতের সংসদীয় রাজনীতি কখনোই পরিপূর্ণ নয়। তাই গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, আমাদের দলের সাংসদ হিসেবে লোকসভায় স্পিকার ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং এই বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হাসিম আবদুল হালিম। তাই আমি মানুষের স্বার্থে কথা বলতে বিধানসভায় এসেছি। গত ১৫ বছরে, এই বিধানসভায় বিরোধীধের কণ্ঠস্বরকে রুখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ মহোদয়, আমি অনুরোধ করব যে, আগামীদিনে যেন বিরোধীধের বেশি করে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কারণ, গঠনমূলক সমালোচনা করলে তবেই মানুষের রায়ের মর্যাদা দিতে পারব আমরা।"
পাশাপাশি নওশাদ সিদ্দিকি আবার তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, “২০২১ সালে জিতে মনে হয়েছিল যে, মাত্র ৬ মাসে ইস্তফা দিয়ে দিই। তাতে যদি আমাদের কর্মীরা বেঁচে যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখলে কোনও জবাব পেতাম না। একটাই কথা বলব, অহেতুক বিরোধিতা করবেন না।"
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
