TMC Leader of Opposition: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জানিয়ে দিল তৃণমূল (west bengal tmc latest news)। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা কক্ষে এবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই বর্ষীয়ান নেতাকেই এবার বড় দায়িত্ব দিল দল (leader of opposition)।
TMC Leader of Opposition: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জানিয়ে দিল তৃণমূল (west bengal tmc latest news)। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা কক্ষে এবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই বর্ষীয়ান নেতাকেই এবার বড় দায়িত্ব দিল দল (leader of opposition)।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
সেইসঙ্গে, তাঁর সঙ্গে থাকবেন দুজন ডেপুটি। বিধানসভার মধ্যে উপবিরোধী দলনেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তৃণমূলের দুই মহিলা বিধায়ক। অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই দায়িত্ব পালন করবেন এবং পাশাপাশি বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জেতা ফিরহাদ হাকিমকে।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত, পর্যুদস্ত হয়েছে তৃণমূল। ২০৭ টি আসনে জিতে বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি। মাত্র ৮০টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। রীতিমতো ভরাডুবি এবং ১৫ বছরের শাসনের অবসান। খোদ ভবানীপুরে পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই গেরুয়া ঝড়ে টালমাটাল পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যেই বৃহত্তর জোটের ডাক দিয়েছেন মমতা।
ফিরহাদ হাকিম পেলেন কোন দায়িত্ব?
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন তথা ৯ মে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী সহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। আর ঠিক সেইদিনই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে হবেন? সেটা জানিয়ে দিল তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা। গত ২০২১ সালে, প্রথমে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে তিনি জেতেন। এরপর এই আসনটি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়কে ছেড়ে দেন তিনি। তারপর উপনির্বাচনে খড়দা কেন্দ্র থেকে ফের একবার লড়াই করে জেতেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূল ক্যাবিনেট মিনিস্ট্রিতে কৃষি দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন শোভনদেব।

এবার ২০২৬ সালের ভোটে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন এই অভিজ্ঞ নেতা। অনেক হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হলেও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং ফিরহাদ হাকিম কিন্তু নিজেদের কেন্দ্রে বড় জয় পান। এবার তাই এই দুই বর্ষীয়ান নেতাকেই বিধানসভায় বিশেষ দায়িত্ব দিল তৃণমূল।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ে মোট ভোট পেয়েছেন ১,০৮,৪৮১। নিকটতম বিজেপি প্রার্থী শতরুপাকে ৬১,৪৭৬ ভোটে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন এই বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা। অন্যদিকে, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ১,০১,২২৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংকে ৫৬,০৮০ ভোটে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন।

উপবিরোধী দলনেত্রী হিসেবে থাকবেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র
সেইসঙ্গে, ধনিয়াখালি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে ১,২৩,৪৬২ ভোট পেয়েছেন অসীমা পাত্র। নিকটতম বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী দাসকে তিনি হারিয়েছেন ১৩,০৫৭ ভোটে। পাশাপাশি চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পেয়েছেন মোট ৬২,৯৩৮টি ভোট। তাঁর নিকটতম বিজেপি প্রার্থী তথা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সন্তোষ কুমার পাঠককে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় হারিয়েছেন ২২,০০২ ভোটে। এবার তাদের হাতেই গুরুদায়িত্ব তুলে দিলেন মমতা।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সঙ্গে ডেপুটি তথা উপবিরোধী দলনেত্রী হিসেবে থাকবেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র। এছাড়া তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফিরহাদ হাকিম।

অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল হলেও এবার বিধানসভা কক্ষের ভিতর আরও চারটি বিরোধী দল রয়েছে। আপাতত ২৯৩টি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আমাদের সামনে এসেছে। একটি বাকি, কারণ, ফলতায় পুনর্নির্বাচন হবে। তৃণমূল ছাড়াও দুটি করে আসন জিতেছে কংগ্রেস এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। এছাড়া একটি করে আসন জিতেছে সিপিএম এবং আইএসএফ।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
