অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় রামপুরহাটের সভায় প্রথমেই ব়্যাম্পে হাঁটেন। তারপরই তিনি ভাষণ দিতে ওঠেন। সেখানেই হেলিকপ্টার ইস্যুতে সরব হন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল কংগ্রেসের নম্বর টু। 

মঙ্গলবার রামপুরহাটের বিনোদপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে হেলিকপ্টারে করে তাঁর সভাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিষেককে হেলিকপ্টারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষপর্যন্ত রামপুরহাটে যেতে অভিষেক ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছ থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। দেরিতে হলেও রামপুরহাটে পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই হেলিকপ্টার না পাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নাম না করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অভিষেক উবাচ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় রামপুরহাটের সভায় প্রথমেই ব়্যাম্পে হাঁটেন। তারপরই তিনি ভাষণ দিতে ওঠেন। সেখানেই হেলিকপ্টার ইস্যুতে সরব হন। তিনি বলেন, 'নির্বাচন সরকারি ভাবে এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তার আগেই বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত। আমার কপ্টারের অনুমতি যা সকাল ১১টায় দেওযার কথা তা এখনও দেওয়া হয়নি। মাঝে ভেবেছিলাম গাড়িতে আসব। কিন্তু আমি যদি বেলা ১১টায় বেরহই তাহলেও ৫ ঘণ্টার রাস্তা ৫টা বেজে যাবে পৌঁছাতে। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙঅগে কথা বলে কপ্টার আনলাম। বিজেপির যা জেদ তার ১০ গুণ বেশি জেদ আমার। আমি কথা রাখি। দেরি হলেও বলেছি যাব। ১০টা মানুষ থাকলেও কথা বলবে। তৃণমূলের হয়ে কথা বলব। '

তবে এখানেই শেষ করেননি অভিষেক। তিনি বলেন, এটাই তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলের সদস্যরা মাথা নত করে না। ৬-৭ ঘণ্টা যাঁরা সভাস্থলে অপেক্ষা করেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তারাপীঠে নেমে, পুজো দিয়ে তিনি সভায় উপস্থিত হয়েছেন। রাস্তায় দুই পাসে প্রচুর সাধারণ মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও সভাস্থলে দাবি করেন অভিষেক।

টার্গেট বীরভূম

বীরভূম মানেই অনুব্রত মণ্ডল। এদিন সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। একই মঞ্চে ছিলেন অনুব্রতর বিরুদ্ধপন্থী কাজল শেষ। দুই বিবাদী নেতাকে পাশাপাশি বসিয়ে অভিষেক ভোটের টার্গেট বেঁধে দেন । তিনি বলেন, '২০২৬ সালে চতুর্থবার মা মাটি মানুষের সরকার হবে। এবার ১০ নয়। ১১-০ তৃণমূলের পক্ষে বীরভূমের মানুষকে করতে হবে।' তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে তৃণমূলের সৈনিক হিসেবে তিনি লড়াই করবেন। অভিষেক আরও বলেন, 'যতই এসআইআর করুক, ষড়যন্ত্র করুক, তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিন মানুষের দোয়া, আশীর্বাদ নিয়ে ভোটের সংখ্যা বাড়বে, ভোটের শতাংশ বাড়বে। ২১৪ পার করে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হবে। আমরা ঘাসফুলের দল। যত আঘাত করেছেন, প্রহার করেছেন, তত শক্তিশালী হয়েছে তৃণমূল।'

তুরুপের তাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার

তৃণমূল কংগ্রেসের তুরুপের তাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। আবারও মঞ্চে দাঁড়িয়ে তা স্পষ্ট করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'তারা ভেবেছিল, তৃণমূলকে ধমকে চমকে, গরিব মানুষের টাকা আটকে মানুষকে শিক্ষা দেবে। মায়েদের উদ্দেশে বলতে চাই, গত ৪-৫ বছরে আমাদের সরকার যে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে, এক বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে প্রতি মায়েদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছে। এই বিজেপি নেতারা ২০২৪ সালের লোকসভা, পঞ্চায়েত ভোট, ক’দিন আগে বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কালীপদ সেনগুপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলছেন, স্বামীদের বলব, যাঁদের স্ত্রী লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন, তাঁদের বন্দি করে রাখুন। যতদিন মমতা সরকার রয়েছে, এরা আপনার লক্ষ্মীর ভান্ডারের দিকে চোখ তুলে দেখার ক্ষমতা রাখবে না। যে ভাবে মাসের প্রথমে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন, পাবেন। বিজেপির যত বড় নেতা হোক, আটকাতে পারবে না। বিজেপি লক্ষ্মীর ভান্ডার আটকাতে চায়। যোগ্য জবাব দেবেন কি না!' মঞ্চ থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বহু মহিলার প্রতিক্রিয়ায় একটি অডিও রেকর্ড শোনান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।