আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যরাকপুরে বিজেপির কর্মীসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দোষীদের গ্রেফতারির দাবি জানান।

আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যরাকপুরে বিজেপির কর্মীসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দোষীদের গ্রেফতারির দাবি জানান। এটাও বলেন যে মোমো কারখানায় আগুন কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতির ফল। মোমো ফ্যাক্টরির মালিককে গ্রেফতার না করা নিয়েও তিনি রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন। এটাও জানিয়ে দেন যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সরকার গড়বে বিজেপি। আর বিজেপি সরকার গড়লে দুর্নীতিতে যুক্ত তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের জেলে ভরবেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে সরব

শাহ বলেন, 'আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যু, ২৭ জন নিখোঁজ, এখনও অবধি কেন মোমো কারখানার মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি? সে কার সঙ্গে বিমান যাত্রা করেছিল! জলাজমি বুঝিয়ে গোডাউন তৈরি করা হয়েছিল, ৩২ ঘণ্টা পর সেখানে মন্ত্রী পৌঁছেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা লুকানোর লুকিয়ে নিন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে দোষীদের সাজা দেবে।' তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দুরা। তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে শাহ বলেন, 'যে বাংলা থেকে বন্দে মাতরম এর রচনা হয়েছিল, সংসদে সেই বন্দেমাতরম এর আলোচনা সভায় তৃণমূলের সাংসদরা বিরোধিতা করেছিলেন। তৃণমূল সরকার বন্দে মাতরম এর বিরোধিতা করছে। কিন্তু এই বিরোধিতা নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা নয়, এই বিরোধিতা হল বাংলার অস্মিতা আর দেশের বিরোধিতা। যারা বাঙালির অস্মিতার বিরোধিতা করে তাদের উৎখাত করুন।'

অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি হাতিয়ার

অনুপ্রবেশ নিয়ে আবারও সরব হন অমিত শাহ। বলেন, 'এবার বাংলার সময়। মা মাটি মানুষের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসে মমতা সরকারের শাসনে মায়েরা অসুরক্ষিত, মাটি অনুপ্রবেশকারীরা দখল করেছে, আর মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সিন্ডিকেটে নাজেহাল। বর্ডারে ফেন্সিং করার জন্য তিনি জায়গা দেননি, সেই সব জায়গা দিয়ে যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে মমতার পুলিশ তাদের আটকায় না, তৃণমূলের নেতারা তাদের জাল নথি তৈরি করে গোটা দেশে তাদের পাঠিয়ে দেশের সুরক্ষার সঙ্গে খেলা করছে। বাংলায় হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এসএসসি, পুরসভা নিয়োগ, গরু, একশো দিনের কাজ, পিএম আবাসের দুর্নীতি হয়েছে। হাজার কোটির দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় কিছুই দেখতে পান না, তাঁর চোখে ভাইপোর মায়ার ছানি পড়েছে। ছানি অপারেশন করান। এখানকার মানুষ সিন্ডিকেট নিয়ে বিরক্ত। গুণ্ডাদের হাতে যায় টাকা। এই সরকার কি চলা উচিত? পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মদন মিত্র, পরেশ পাল, মানিক ভট্টাচার্য, অজিত মাইতি, চন্দ্রনাথ সিংহ, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অনুব্রত মণ্ডল— সকলে জেলে গেছেন। আমাদের সরকার গড়তে দিন, বাকিদেরও ভরে দেব। মমতাজি, সাহস থাকলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইলে, এদের টিকিট দেবেন না। ওদের টিকিট না দিলে ওরা ভাইপোর নাম বলে দেবে। নরেন্দ্র মোদীজি বাংলার উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা করছেন। বারোটা রেল উপহার দিয়েছেন, আর প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি সরকারকে দিয়েছেন। মতুয়া এবং নমঃশূদ্র সমাজ ভয় পাবেন না, আপনাদের অধিকার কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। শুধু বদল নয়, একদম মূল সমেত উপড়ে ফেলে দিতে হবে তৃণমূল সরকারকে।'