তাহলে কি তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে গেল! দিলীপের গুরুত্ব যে কমতে চলেছে, তার ইঙ্গিত আগেই পেয়েছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের পরে একটি বারের জন্যই গিয়েছিলেন দলের নতুন রাজ্য দফতরে।

অসন্তোষের আভাস দিচ্ছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর য়ে কিছুটা বিরক্ত, তাও বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ঠারেঠোরে। এবার বোমা ফাটালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি লোকসভা ভোটে তিনি হেরেছেন। তাঁর খাস তালুক মেদিনীপুরেও হেরেছে বিজেপি। তারপর থেকেই দিলীপ ঘোষ নাম না করে নিশানা করেছেন রাজ্য বিজেপি নেতাদের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

লোকসভা নির্বাচনে সর্বশেষ পরিচিতি ‘সাংসদ’ তকমাও হারানোর পরে দলের রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত তাঁর পরবর্তী দায়িত্ব সম্পর্কে কোনও কথা বলেননি। এবার শুক্রবার দিলীপ বলেন, ‘‘আমি এ ভাবে থাকতে পারব না। আমার জন্য নির্দিষ্ট কাজ না থাকলে রাজনীতিকে টা-টা, বাই-বাই বলে দেব।’’

তাহলে কি তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে গেল! দিলীপের গুরুত্ব যে কমতে চলেছে, তার ইঙ্গিত আগেই পেয়েছেন তিনি। লোকসভা নির্বাচনের পরে একটি বারের জন্যই গিয়েছিলেন দলের নতুন রাজ্য দফতরে। কোর কমিটির বৈঠকের দিন সল্টলেক অফিসে শেষ বার পা রাখার পরের দিনেই তিনি রাজ্য সফরে বেরিয়ে পড়েন। দলের কোনও নির্দেশ না থাকলেও তিনি স্বাধীন ভাবে বিভিন্ন জেলায় যান। বিজেপির পুরনো নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন।

দিলীপ বলেন, ‘‘আরও কিছু দিন অপেক্ষা করব। দলের পক্ষে কিছু জানানো হয় কি না, তার অপেক্ষায় রয়েছি। তবে কাজ করে যাচ্ছি। আজও আমার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অপেক্ষার তো একটা সীমা থাকে!’’

উল্লেখ্য, রাজ্য বিজেপির ইতিহাসে বিজেপি রাজ্য সভাপতি হিসেবে দিলীপ সবথেকে সফল। কারণ তার আমলেই লোকসভা নির্বাচনে সবথেকে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি। দিলীপের আমলে বিজেপি ১৮টি আসন পেয়েছিল। এবার আরও বেশি আসন পাওয়ার কথা। কিন্তু এবার রাজ্য বিজেপিতে ধস। যদিও এবার নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন সুকান্ত মজুমদার আর শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও এবার সুকান্তর থেকে শুভেন্দু অনেক বেশি কার্যকর ছিলেন বলেও বিজেপি সূত্রের খবর। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচার অনেকাংশে শুভেন্দুর মতামতকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছিল দিল্লির বিজেপি। আর সেই কারণে দিলীপের আসন বদল হয়েছে বলেও বিজেপি সূত্রের খবর। তাতেই প্রথম থেকেই বেজায় চটে ছিলেন বিজেপি নেতা। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।