কাঞ্চন মল্লিকের সরকারি হাসপাতালে দাদাগিরির ঘটনায় নতুন বিতর্ক। চিকিৎসক সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়ে কাঞ্চনের ক্ষমা প্রার্থনা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

একের পর এক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে কাঞ্চন মল্লিককে ঘিরে। সদ্য সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দাদাগিরি করেছেন কাঞ্চন। আর তার ফলেই একের পর এক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে তাঁকে নিয়ে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এবার কাঞ্চনের এই আচরণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইমেইল করে অভিযোগ জানালো চিকিৎসক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশ অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস। চিকিৎসক সংগঠনের দাবি, তৃণমূল বিধায়ককে তার ব্যবহারের জন্যই জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। আইনত ব্যবস্থা নিতে হবে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে কোনও জনপ্রতিনিধি এই ধরনের ব্যবহার না করতে পারে চিকিৎসকদের সঙ্গে। এর সঙ্গে ক্যালকাটা স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের তরফ থেকে এই মুহূর্তে ডিরেক্টরের ডেপুটেশন দেবে। যাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পুলিসে অভিযোগ জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ঘটেছে ঘটনাটি। শাশুড়িকে চিকিৎসা করাতে ট্রপিক্যালে যান কাঞ্চন। বিধায়কের দাবি করেন, বাকি রোগীদের বাদ দিয়ে তাঁর শাশুড়িকে আগে দেখে দিতে হবে। ডাক্তার জানিয়েছিলেন, সেই সময় একজন শিশুকে তিনি দেখছেন। তাঁকে দেখে কাঞ্চনের শাশুড়িকে দেখে দেবেন বলেন। সে কারণে অল্প সময় অপেক্ষা করতে বলেন কাঞ্চনকে। অভিযোগ, এতেই চটে যান বিধায়ক। ডাক্তারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। বদলির হুমকি দেওয়া হয়। অনেকে বলছেন, সে সময় হাতাহাতিও হয়েছে। এই ঘটনা দেখে আউটডোরে থাকা অন্য রোগীরা রেগে যায়। তারা প্রতিবাদ জানান। রোগীদের পরিজনদের প্রতিবাদ দেখে ট্রপিক্যাল ছাড়েন কাঞ্চন ও তার পরিবারে।

এই ঘটনার পর সিনিয়র রেসিডেন্ট স্কুল অব ট্রপিক্যালের প্রণিত রায় বলেন, ওরা স্যারকে চাপ দেন। এক্ষুণি দেখে দিতে হবে বারবার বলতে থাকেন। তারপর স্যার না শুনলে তাঁকে বলেন আপনার নাম কী? রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী? আপনাকে ট্রান্সফার করে দেব বলে হুমকি দেন। এই ঘটনায় স্যার দুঃখ পেয়েছেন।

তবে, কাঞ্চন এই ঘটনা অস্বীকার করেছে। কাঞ্চন এক সাক্ষাৎকারে বলেছে, ‘আমি কোনও দুর্ব্যবহার করিনি। এই ঘটনায় খারাপ লেগেছ। আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। উনি কেন রেগেছেন আমি বুঝিনি। তবে ওঁর ব্যবহার খারাপ লেগেছে। ওঁর রোগী এসেছিলেন… আমি বুঝলাম না কেন রেগে গিয়েছে। একজন চিকিৎসকের সঙ্গে এমন কথা বলা যায় না।’