ইদানিং দেশ জুড়ে কোভিড সতর্কতা বেড়ে গেলেও গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে বাবুঘাটের শিবিরে পুণ্যার্থীদের জন্য আপাতত কোনও কড়া কোভিড-বিধি বলবৎ করছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। 

২০২৩-এর ১৪ জানুয়ারি সাগরদ্বীপে পৌষ সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে পুণ্যস্নান করার জন্য ভিড় জমাবেন তীর্থযাত্রীরা। এবছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর মেলায় রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হবে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসনের। তাই এক মাস আগে থেকেই মেলা সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। তবে, ইদানিং দেশ জুড়ে কোভিড সতর্কতা বেড়ে গেলেও গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে বাবুঘাটের শিবিরে পুণ্যার্থীদের জন্য আপাতত কোনও কড়া কোভিড-বিধি বলবৎ করছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে, করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শিবির তৈরি-সহ পুণ্যার্থীদের যাবতীয় পরিষেবামূলক কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে শনিবার কলকাতা পুরভবনে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকে কলকাতা পুরসভা ছাড়াও সেনাবাহিনী, কলকাতা পুলিশ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, সিইএসসি-সহ বিভিন্নস্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন।

ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত যে নির্দেশিকা এসেছে, তাতে আমরা বাবুঘাটে কোভিড পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখছি। মাস্ক ও স্যানিটাইজ়ারের ব্যবস্থাও থাকবে। কিন্তু আর অন্য কোনও বিধি মানতে এখনই বলা হচ্ছে না। যদি এর মধ্যে ভারতে আবার কোভিড বাড়ে, তা হলে নিশ্চিত ভাবেই কেন্দ্রের নির্দেশিকা আসবে, তখন সেই অনুযায়ী আমাদের আবারএখান থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সব বদলে নিতে হবে।”

গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরদ্বীপে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৪ জানুয়ারি কলকাতা থেকে সাগরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে থেকে গঙ্গাসাগর মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পারেন তিনি। যেতে পারেন কপিলমুনির আশ্রমেও। ৪ তারিখে গঙ্গাসাগরে গিয়ে ৫ তারিখ সেখানকার যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে ৬ তারিখ কলকাতা ফিরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে যাবতীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই খবর। তাই জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তা থেকে শুরু করে সভাধিপতি শামিমা শেখ গঙ্গাসাগরে উপস্থিত থাকবেন।

কলকাতার মেয়র জানিয়েছেন, এ বারের গঙ্গাসাগর মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের জন্য ‘সিঙ্গল টিকিট’-এ গঙ্গাসাগর যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিষয়টি পরিবহণ দফতর দেখছে। মেলা চলার সময়ে শহরে জি-২০ সংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠক ছাড়াও ভারত-শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট ম্যাচও রয়েছে। ওই সময়ে শহরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শহর পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বাড়তি ব্যবস্থাপনা রাখা হচ্ছে। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে দিনে চার-পাঁচ বার পুরসভার জঞ্জাল বিভাগের কর্মীরা সাফাইয়ের কাজ করবেন। প্রিন্সেপ ঘাট, বাজেকদমতলা ঘাট-সহ গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে বায়ো টয়লেট বসানো হবে। রেললাইন, গঙ্গার ঘাটের আশপাশে যাতে কেউ মল-মূত্র ত্যাগ না করেন, তার জন্য বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। বাবুঘাটের শিবিরেও একাধিক অস্থায়ী শৌচালয় তৈরি করা হবে। সেগুলি দিনে একাধিক বার পরিষ্কারের জন্য পুরসভা প্রচুর কর্মী মোতায়েন করবে।