তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-র দফতরে বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযান চালানো হয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও। দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

আইপ্যাক-র (I-PAC) অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-র (ED) তল্লাশি ঘিরে আরও চড়ল পারদ। থানায় অভিযোগ দায়ের থেকে কোর্টে মামলা। ধীরে ধীরে বাড়ছে নাটক। ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। আইপ্যাক-র কার্যালয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ এবং চুরির অভিযোগে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, তল্লাশিতে বাধা দেওয়া নিয়ে মামলা দায়ের করেছে ইডি। সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশির মধ্যেই নথি ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। আইপ্যাক-র দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) যাওয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের মামলা করেছে ইডি (Enforcement Directorate)। মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা। অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-র দফতরে বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযান চালানো হয় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও। ওই তল্লাশির মধ্যেই দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ নিয়ে। সেখানে এই তল্লাশি অভিযানকে ক্রাইম বলে অভিহিত করেন। মমতা সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক কৌশল ছিনতাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের নেপথ্যে বিজেপিকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, 'আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে রেড করি তাহলে কেমন হবে?' এরপর সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরেও যান মমতা। এখনও সেখানেই রয়েছেন তিনি। মাঝে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইডি, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বাদ যাননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

মমতার এই অভিযোগের পরেই ইডি বিবৃতি জারি করে। সেখানে বলা হয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই অভিযান। পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি এবং দিল্লির চারটি জায়গায় (মোট ১০টি জায়গায়) বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশি চলছে। তারা আরও দাবি করে সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে দু’টি জায়গা থেকে তল্লাশির মধ্যেই নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুরো ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইডি। তারা জানিয়েছে, 'ইডি সদর দফতরের একটি ইউনিট পিএমএলএ-এর অধীনে ১০টি ঠিকানায় (পশ্চিমবঙ্গে ৬টি এবং দিল্লিতে ৪টি) তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযান অনুপ মাজি পরিচালিত কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা পশ্চিমবঙ্গের ইসিএল-এর লিজপ্রাপ্ত এলাকা থেকে কয়লা চুরি ও অবৈধভাবে উত্তোলন করত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কর্মী এবং রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার আগে পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। এরপর তাঁরা দুটি ঠিকানা থেকে জোরপূর্বক নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিয়ে যান। এটি স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, এই তল্লাশি প্রমাণ-ভিত্তিক এবং কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নয়। কোনও দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশি কোনও নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানেরই একটি অংশ। এই তল্লাশি প্রতিষ্ঠিত আইনি সুরক্ষাবিধি কঠোরভাবে মেনে পরিচালিত হচ্ছে।'

ইডি-র তরফে এই বিষয়টিও বিবৃতিতে বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এরপর মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহর আই-প্যাকের কার্যালয়ে যায়, যেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সহযোগীরা এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোরপূর্বক নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ নিয়ে যান। এই পদক্ষেপের ফলে পিএমএলএ-এর অধীনে চলমান তদন্ত ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।'