West Bengal News: ফের প্রকাশ্যে পুর দুর্নীতি। করোনাকালে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার নাম করে অর্থ তচ্ছরূপ। বিপাকে টাকি পৌরসভা! বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পড়ুন… 

West Bengal News: করোনা কালে পে মাস্টার হয়ে বিপাকে পৌর স্টাফ, সরকারি টাকা নিজেদের মধ্যে বন্টনের অভিযোগ সিপিএম, বিজেপি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। করোনা কালে ক্লার্ককে পে মাস্টার বানিয়ে তার ব‍্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌরোন্নয়নের লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকিয়ে সেই টাকা নিজেদের মধ‍্যে বন্টনের অভিযোগ উঠেছে সিপিএম, বিজেপি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। বসিরহাটের টাকি পৌরসভার ঘটনা। ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে করোনা কালে মানুষকে দ্রুত পরিষেবা দিতে পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে বোর্ড মিটিং হয়। টাকি পৌরসভার ফিনান্স অফিসার সোমনাথ বন্দ‍্যোপাধ্যায় এক্সিকিউটিভ অফিসার রহমত আলী, পৌরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় ও উপ-পৌরপ্রধান আজিজুল ইসলাম গাজী সহ কাউন্সিলদের সম্মতিতে একটি রেজুলেশন পাশ হয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানা গিয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে উন্নয়নের অর্থ যাতে করোনা কালে কাউন্সিলররা নিয়ে শহরবাসীকে পরিষেবা দিতে পারে। তার জন্য তখনকার ক্লার্ক তথা বর্তমান টাকি পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত বড়বাবু প্রবীর চ‍্যাটার্জীকে পে মাস্টার বানানো হয়। সেই মতো তার ব‍্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নর্দমা ও জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য ৭২ লক্ষ টাকা ঢোকে। পৌরসভার আধিকারিক, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলরদের সম্মতি মতো তিনি প্রত্যেক কাউন্সিলরকে ডেকে রেজুলেশন খাতায় সই করিয়ে তাদের অর্থ বন্টন করে দেন। কিন্তু এত বছর পর টাকি পৌরসভার অর্থ দফতরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আশায় চর্চা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। 

বর্তমান বড়বাবু প্রবীর চ্যাটার্জি বলেন, "ফিন্যান্স অফিসার, পৌরসভার আধিকারিক, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সহ সব রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত মতো আমাকে পে মাস্টার বানানো হয়‌। আমি সর্বসম্মতিতে করোনা পিরিয়ডে মানুষকে পরিষেবা দিতে টাকি পৌরসভার সেই নির্দেশ পালন করি। পাশাপাশি আমার অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করার জন্য তারা অনুরোধ করেন। জনগণকে পরিষেবা দিতে আমি সেই প্রস্তাবে রাজি হই। পৌরসভা যেভাবে আমাকে পরিচালনা করেছে আমি সেই ভাবে পরিচালিত হয়েছি। এর কোনও দায় আমার নয়।"

বিষয়টি নিয়ে টাকি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ‍্যায় বলেন, "বিষয়টি আমার কানে এসেছে। এটা পুরোটাই অহেতুক এবং এটা টাকি পৌরসভাকে বদনাম করার জন্য করা হচ্ছে। যেমনটা করা হয়েছিল সিবিআই তদন্ত নিয়ে। পরবর্তীতে সিবিআই টাকি পৌরসভাকে ক্লিনচিট দেয়। করোনা কালে স্বচ্ছতা বাড়াতে পাশাপাশি স্যানিটাইজেশন করতে এই টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। পৌরসভার তৎকালীন ফিন্যান্স অফিসার, সরকারি আধিকারিক ও ১৬টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক করোনার সঙ্গে লড়তে, ড্রেন পরিস্কার, স্যানিটাইজেশন বাড়ি বাড়ি মানুষকে পরিষেবা সহ এমনকি তাদের বাজার করে দিয়ে মানুষকে পরিষেবা দিতে সিপিএম, বিজেপি ও তৃণমূল কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্ত মত প্রবীর চ্যাটার্জিকে পে মাস্টার করা হয়।'' 

সূত্রের খবর- ‘’সেই সময়কার ফিন্যান্স অফিসার জানিয়েছিলেন পৌরসভার এক পার্মানেন্ট স্টাফকে পে মাস্টার করা হলে সেখান থেকে সমস্ত বিল পেমেন্ট সহ লেবারদের পেমেন্টও করা হবে। সেই জন্যই প্রবীর চ‍্যাটার্জীকে ঐ পদে আসীন করা হয়। পে মাস্টার হিসেবে টাকা বন্টন করার জন্য একটি রেজিস্টারও করা হয়। সেখানে ওয়ার্ড ভিত্তিক লেবার সহ কাউন্সিলরদের সইও করা আছে।" তাহলে টাকি পৌরসভার অর্থ দফতরের এই আভ্যন্তরীণ বিষয়টি বাইরে এলো কি করে? কেউ কি ষড়যন্ত্র করছে? নাকি টাকি পৌরসভাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে? তাই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ওয়াকিবহাল মহল।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।