মঞ্চ দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যের আলু নীতির তীব্র সমালোচনা করেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য। যা নিয়ে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে আলু ব্যবসায়ী সমিতির দশম সম্মেলন। ব্যবসায়ীর নিশানায় বেচারাম মান্নাও।
মঞ্চ দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যের আলু নীতির তীব্র সমালোচনা করেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যের। যা নিয়ে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে আলু ব্যবসায়ী সমিতির দশম সম্মেলন। এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল হুগলির পান্ডুয়ার বৈচিতে। বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য বরুণ পণ্ডিতকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কর্মীরা। যদিও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মমতার আলু নীতির সমালোচনা
রাজ্য সরকারের আলু নীতির তীব্র সমালোচনা করেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য বরুণ পণ্ডিত। তিনি বলেন, মিডডে মিলের জন্য আলু কিনে নেওয়ার কথা বলেছিল সরকার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা করা হয়নি। ২০২৫ সাল আলু চাষীদের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে বলেও তিনি দাবি করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়েও কথা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন বরুণ পণ্ডিত । তিনি বলেন বেচারাম মান্নারও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। তিনি বেচারাম মান্নাকে মীরজাফরের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তাদের জেলা ছাড়া করা উচিৎ। কথা প্রসঙ্গে তিনি সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিঙ্গুরের মাটি শ্মশান হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকার ভয় দেখাচ্চে। তাঁর প্রশ্ন, 'আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে আলু ব্যবসাকে শেষ করে দেবেন?' কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন 'মাননীয় মন্ত্রী বলেছিলেন মিডডে মিলের জন্য আলু কিনে নেবেন। কিন্তু আলু কেনা হয়নি। মন্ত্রীকে 'মিথ্যাশ্রী' তকমা দেওয়া উচিৎ।'
তৃণমূলের প্রতিবাদ
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির হুগলি জেলার দশম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে পান্ডুয়ার বৈচীর একটি হিমঘরে।
সেখানে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি সংগঠনে সদস্য বরুন পন্ডিত মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের আলু নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার তীব্র সমালোচনা করেন। যাতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। সম্মেলনে উপস্থিত তৃণমূল নেতা কর্মীরা মঞ্চের দিকে তেড়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবী, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের মন্ত্রী সম্পর্কে যে মন্তব্য রেখেছেন তার জন্য তাকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।যা নিয়ে শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। ঘটনা স্থলে হাজির হয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হুগলি জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য মানস মজুমদার ও পান্ডুয়ার তৃণমূল নেতা সঞ্জয় ঘোষদের অভিযোগ,প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য মুখ্যমন্ত্রী কে মিথ্যা শ্রী বলেছেন।কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না কে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিবাদ এর প্রতিবাদে তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি ক্ষমা চাননি।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির বার্তা
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায়,বরুন পন্ডিতের হয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। পরে লালু বলেন,আমাদের সংগঠন কখনোই সরকারের সঙ্গে সংঘাত চায়না। ২০২৪ সালে বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার।তারপরেও আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চলতে চেয়েছি।
আলু নিয়ে সরকার-ব্যবয়াসীদের টানাপোড়েন
আলুর মরশুমে প্রতিবছর প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন শুরু হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে আলুর ফলন বে়ড়ে যাওয়ায় আলুর দাম পাচ্ছেন একাধিক আলু ব্যবসায়ী। আলু হিমঘরের রাখারও সুব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। একাধিকবার ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত সামনে আসে। গত বছর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বেচারাম মান্না প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পাল্টা অন্য একটি সংগঠন তৈরি করে দেন। যা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের।


