জনসভা থেকে বক্তব্য রাখতে উঠে মোদী প্রমথেই মালদা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, মালদা বাংলার সমৃদ্ধির একটা বড় কেন্দ্র। মালদা আমসত্ত্ব, রেশম, লোক সংগীত আর বৌদ্ধিক চেতনার জন্য পরিচিত।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্লোগাও বেঁধে দিয়েছে। মালদার দলীয় জনসভা থেকে মোদী বলেন, 'পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার!' পাশাপাশি, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, মহিলাদের উপরে হওয়া হিংসা নিয়ে সরব হন তিনি। এছাড়াও, মতুয়া ও শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি আবার আশ্বস্থ করেন। বলেন, মতুয়া, শরণার্থীদের ভয় খাওয়ার দরকার নেই। ভারত সরকার তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এনেছে।

জনসভা থেকে বক্তব্য রাখতে উঠে মোদী প্রমথেই মালদা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, মালদা বাংলার সমৃদ্ধির একটা বড় কেন্দ্র। মালদা আমসত্ত্ব, রেশম, লোক সংগীত আর বৌদ্ধিক চেতনার জন্য পরিচিত। মালদার এই পবিত্র ভূমিকে আমার আন্তরিক প্রণাম। আজ আমাদের দেশ ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বিকশিত ভারত হওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। যার জন্য পূর্ব ভারতের বিকাশ খুবই জরুরি। বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আসল পরিবর্তন দরকার। এরপরেই মোদী উপস্থিত জনতাকে দিয়ে বলান, 'পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।'

২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পরে বাংলায় বিজেপি সরকার হবে বলে আশা করেছেন মোদী। বলেন, 'ওড়িশায় প্রথম বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। ত্রিপুরার মানুষ বছরে পর বছর বিজেপিকে আশীর্বাদ করছে। আসামেও বিজেপি ক্ষমতায় আছে। আর কিছুদিন আগেই বিহারের মানুষও এনডিএকে ক্ষমতায় এনেছে। অর্থাৎ বাংলার চারিদিকেই বিজেপির সুশাসন চলছে। এবার বাংলার পালা । যেখানে কোনওদিন বিজেপির জন্য নির্বাচন জেতা অসম্ভব মানা হত, আজ সেখানেও অভূতপূর্ব জয়লাভ করেছে বিজেপি। এইবার বাংলার জনগণও বিজেপিকে জেতাবে। আমি চাই ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের মত বাংলার মানুষও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাক। আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু হোক। কিন্তু ভারতবর্ষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে এই প্রকল্প চালু হয়নি। গরিব মানুষের উপকার হোক এমন সমস্ত জনমুখী প্রকল্পগুলি এখানকার তৃণমূলের নির্মম সরকার বাস্তবায়িত করছে না। তৃণমূল সরকার নির্মম, কেন্দ্র থেকে পাঠানো টাকা তৃণমূলের লোকজন লুট করে, গরিবরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। বাংলার মানুষের ভাল তখনই হবে যখন সমস্ত কাজে বাধা দানকারী তৃণমূল সরকার নয়, উন্নয়নই যাদের লক্ষ্য সেই বিজেপি সরকার হবে।'

মোদী বলেন, 'আমি আজ মালদার মাটি থেকে জোর গলায় আপনাদের বলছি বাংলাতে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পরেই তৃণমূলের সমস্ত দুর্নীতিপূর্ণ কার্যকলাপ বন্ধ হবে। কেন্দ্র সরকার দেশে প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা চালু করেছে, লক্ষ লক্ষ পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে। বিজেপি সরকার এই প্রকল্পের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে, আমি চাই পশ্চিমবঙ্গের জনগণও এই সুবিধার অংশ হোক। কিন্তু তৃণমূলের নির্মম সরকার এইসব প্রকল্পগুলি বাংলায় শুরু করতে দিচ্ছে না। বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করুন, বাংলার পাট চাষী এবং পাট ব্যবসায়ীদের অনেক বেশি লাভ হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। আপনারা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার তৈরি করুন। আমরা পশ্চিমবঙ্গের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে দেব।'

তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'তৃণমূলের নেতা, তৃণমূলের সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তাদের ভোটার বানাচ্ছে আর এই অনুপ্রবেশকারীরাই গরিবের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, যুবকের কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে, মা বোনেদের ওপর অত্যাচার করছে আর সারাদেশে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর একাধিক কোল্ড স্টোরেজ তৈরি হবে।'

ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে দুদিন ধরে রণক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। খবর সংগ্রহে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। এনিয়ে মুখ খোলেন মোদী। তিনি বলেন, 'কালকেই আমরা দেখেছি তৃণমূলের গুন্ডারা একজন মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে কতটা অশালীন ব্যবহার করেছে। তৃণমূলের জামানায় বাংলার স্কুল কলেজেও নারীরা সুরক্ষিত নয়।এখানে শাসন প্রশাসনে নির্মCতা এমন যে মেয়েদের কথা শোনা হয় না। কোর্টে যেতে হয়। এই জিনিসের পরিবর্তন দরকার। এই কাজ কে করবে। এই কাজ আপনাদের একটা ভোট করবে। আপনাদের একটা এক ভোট বাংলার পুরনো গৌরব ফেরাবে। আমি বিজেপির কর্মীদের বলছি, তৃণমূলের গুন্ডাবাজি আর বেশিদিন চলবে না। এরও শেষ হবে। গরিব মানুষকে ভয় দেখানো, ধমকানোর রাজনীতি শেষ হবে।'