মালদা থেকে দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটিরও উদ্বোধন করেন।

মালদা থেকে দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটিরও উদ্বোধন করেন। মোদী জনসভায় মোদী ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আধুনিক ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিবহন চাহিদা মেটাতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার ট্রেন, যা সাশ্রয়ী ভাড়ায় যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের মতো অভিজ্ঞতা দেবে। এই ট্রেনটি দূরপাল্লার যাত্রাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক করে তুলবে। এটি হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে ভ্রমণের সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা কমিয়ে দেবে। ট্রেনটি ১৪ ঘণ্টায় হাওড়া থেকে কামাখ্যা পৌঁছবে। কামাখ্যা থেকে হাওড়া পৌঁছতেও একই সময় লাগবে।

হাওড়া-কামাখ্যা-হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি রাতে চলাচল করবে, যা সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সকালে শেষ হবে। ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে হাওড়া থেকে ছাড়বে। কামাখ্যা পৌঁছবে পরেরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। অন্যদিকে, কামাখ্যা থেকে এই ট্রেন ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। হাওড়ায় পৌঁছবে পরদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। দু'দিকের যাত্রাপথে এই ট্রেন থামবে মোট ১৩টি স্টেশনে। সেগুলি হল রঙ্গিয়া, নিউ বঙ্গাইগাঁও, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ কোচবিহার, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, আলুয়াবাড়ি রোড, মালদা টাউন, নিউ ফারাক্কা, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, নবদ্বীপ ধাম এবং ব্যান্ডেল। নিউ জলপাইগুড়ি ও মালদা টাউন স্টেশনে ১০ মিনিট এবং আজিমগঞ্জ স্টেশনে ৫ মিনিট দাঁড়াবে এই ট্রেন। বাকি স্টেশনগুলিতে ২ মিনিট করে দাঁড়াবে। সপ্তাহে ছ’দিন চলবে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস।

হাওড়া-কামাখ্যা-হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ১৬টি কোচ থাকবে, যার মধ্যে ১১টি থ্রি-টিয়ার এসি কোচ, ৪টি টু-টিয়ার এসি কোচ এবং ১টি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ রয়েছে। ট্রেনটির মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮২৩ জন, যার মধ্যে থ্রি-টিয়ার এসিতে ৬১১টি বার্থ, টু-টিয়ার এসিতে ১৮৮টি বার্থ এবং ফার্স্ট ক্লাস এসিতে ২৪টি বার্থ রয়েছে। ট্রেনটিতে উন্নত নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য সেন্সর-ভিত্তিক ইন্টারকমিউনিকেশন দরজা, শেষ প্রান্তের দেওয়ালে ফায়ার ব্যারিয়ার দরজা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। রাউটার ও অ্যাক্সেস পয়েন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওয়াই-ফাই সংযোগ, ভ্যাকুয়াম ইভাকুয়েশন টয়লেট, প্রশস্ত লাগেজ রাখার জায়গা এবং বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্থ ও টয়লেটের মতো সুবিধা দিয়ে যাত্রীদের আরাম আরও বাড়ানো হয়েছে। ফার্স্ট এসি কোচগুলিতে অতিরিক্তভাবে গরম জলের সঙ্গে শাওয়ারের সুবিধাও রয়েছে।

স্থানীয় খাবার

হাওড়া থেকে শুরু হওয়া ট্রেনটিতে বাঙালি খাবার থাকবে – বাসন্তী পোলাও, ছানার ডালনা, ভাজা মুগ ডাল, মটর ভাজা, ফুলকা (রুটি বিশেষ), রসগোল্লা এবং সন্দেশ। আরেকটি বিকল্পে মটরশুঁটির পোলাও, মিক্স ডাল, ধোকার ডালনা, আলু ঝুরি ভাজা, ফুলকা এবং রস কদম পরিবেশন করা হবে। গুয়াহাটি থেকে শুরু হওয়া ট্রেনের জন্য খাবারের বিকল্পগুলি হবে জোহা রাইস, মাটি মোহর ডালি, মটর পনির, আলু বিনস ভাজা, ফুলকা (রুটি বিশেষ), নারকেল বরফি, এবং জিরে পোলাও, মুসুর ডাল, লাবড়া, আলু ভিন্ডি ভাজা এবং লাল মোহন।