যাত্রী সুরক্ষায় সুখবর দিল পূর্ব রেল। এই জোনের বাকি রেল নেট ওয়ার্কে দেশীয়ভাবে তৈরি অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম (এটিপি) ব্যবস্থা 'কবচ' লাগানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যাত্রী সুরক্ষায় সুখবর দিল পূর্ব রেল। এই জোনের বাকি রেল নেট ওয়ার্কে দেশীয়ভাবে তৈরি অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম (এটিপি) ব্যবস্থা 'কবচ' লাগানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটি রেল বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল এবং মাননীয় রেলমন্ত্রী প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। পূর্ব রেলের মোট রেল নেটওয়ার্কের অধিকাংশ অংশ কবচ লাগানো হয়ে গিয়েছে। বাকি ৪৪৩ অংশিষ্ট রুটে কবচ লাগানো হবে। যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৩.৮৩ কোটি টাকা।

অনুমোদিত কাজটি পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি যেমন হাওড়া–সাঁতরাগাছি, লিলুয়া–বেলুড় মঠ, তারকেশ্বর–গোগাট, ময়নাপুর–বিষ্ণুপুর, রামপুরহাট–দুমকা, আজিমগঞ্জ–মুর্শিদাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর–নামখানা, কাঁকুড়গাছি–বালিগঞ্জ, কল্যাণী–কল্যাণী সীমান্ত, কৃষ্ণনগর জংশন–আমঘাটা, কৃষ্ণনগর সিটি–লালগোলা, মুর্শিদাবাদ–আজিমগঞ্জ, আসানসোল–বার্নপুর, বড়াচাক–হীরাপুর এবং বখতার নগর–আন্দাল বিভাগগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এই কাজটি সম্পন্ন হলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মধ্যে থাকা পূর্ব রেলের সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্ক কবচ ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবে। এই উন্নত দেশীয় সুরক্ষা প্রযুক্তির বাস্তবায়ন ট্রেন দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত গতি প্রতিরোধ করে যাত্রীদের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং এই অঞ্চলে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ট্রেন চলাচলকে আরও শক্তিশালী করবে।

‘কবচ’ কী?

কবচ হল একটি অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম। যা একধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেখানে প্রতি মুহূর্তে চালককে সতর্ক করা ও ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে থাকে। রেল ২০১২ সালে এই সিস্টেমটির উপর কাজ শুরু করে। সেই সময় প্রকল্পটির নাম ছিল ট্রেন কলিশন অ্যাভয়ডেন্স সিস্টেম (TCAS)। এই সিস্টেমটি তৈরির পেছনে ভারতীয় রেলের লক্ষ্য হল দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে শূন্য় করা। এর প্রথম পরীক্ষাটি ২০১৬ সালে করা হয়েছিল।

কবচ কীভাবে কাজ করে?

এই সিস্টেমটি বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের একটি সমষ্টি। ট্রেন, রেললাইন, রেলওয়ে সিগন্যাল সিস্টেমে এবং প্রতি এক কিলোমিটার অন্তর প্রতিটি স্টেশনে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। সিস্টেমটি আল্ট্রা-হাই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে অন্যান্য যন্ত্রাংশের সঙ্গে যোগ থাকে। একজন লোকো পাইলট সিগন্যাল অমান্য করলেই এই সুরক্ষা ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর সিস্টেমটি লোকো পাইলটকে সতর্ক করে এবং ট্রেনের ব্রেকের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয়। সিস্টেমটি যখনই ট্র্যাকের উপর অন্য একটি ট্রেনের আগমন শনাক্ত করে, তখনই এটি প্রথম ট্রেনটির চলাচল বন্ধ করে দেয়। সিস্টেমটি ক্রমাগত ট্রেনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং সংকেত পাঠায়। এই প্রযুক্তিটি সিস্টেমটিকে একই ট্র্যাকে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার আগেই একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে উভয় ট্রেনকে থামিয়ে দিতে পারে। দাবি অনুযায়ী, যদি কোনও ট্রেন সিগন্যাল অমান্য করে, তবে ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত ট্রেন থেমে যাবে।