দক্ষিণবঙ্গে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে, যার মূল কারণ পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম হাওয়া। অন্যদিকে, একটি অক্ষরেখা অবস্থান করছে উত্তরবঙ্গে, যার ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে।

লু-র সতর্কতার মধ্যেও এসেছে স্বস্তির খবর—রাজ্যের ৮টি জেলায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দক্ষিণবঙ্গে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে, যার মূল কারণ পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম হাওয়া। অন্যদিকে, একটি অক্ষরেখা অবস্থান করছে উত্তরবঙ্গে, যার ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে, আর উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের মূল ভূখণ্ডে আগাম বর্ষা প্রবেশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী ২৭ মে কেরল দিয়ে বর্ষা ঢুকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। এর আগে তারা জানিয়েছিল, ১৩ মে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা প্রবেশ করবে।

ভারতের মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৯ দিন আগেই বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। একইভাবে, ভারতের মূল ভূখণ্ডেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের পাঁচ দিন আগেই প্রবেশ করতে চলেছে।

সাধারণত ২২ মে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে। গত বছর এটি তিন দিন আগে, অর্থাৎ ১৯ মে onset হয়েছিল। তবে এবার আরও আগেই বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে ভারতের এই দ্বীপাঞ্চলে।

উত্তর-পূর্ব আসামে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি, উত্তর-পশ্চিম ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিমমুখী নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা উত্তরবঙ্গ, আসাম এবং মেঘালয়ের উপর দিয়ে অতিক্রম করছে।

একটি অক্ষরেখা সৌরাষ্ট্র থেকে উত্তর-পূর্ব আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি, আরেকটি উত্তর-দক্ষিণমুখী অক্ষরেখা মারাঠাওয়াড়া থেকে গাল্ফ অফ ম্যানার পর্যন্ত প্রসারিত, যা তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের উপর দিয়ে অতিক্রম করছে।

দক্ষিণবঙ্গে সোমবার চারটি জেলায় তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে—বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুর। এরপর মঙ্গলবার তাপপ্রবাহের পরিধি আরও বাড়বে এবং ছয়টি জেলায় তা দেখা যেতে পারে—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম।

বুধবার দক্ষিণবঙ্গের ছয়টি জেলায় তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহ কিছুটা কমে পাঁচটি জেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম।

"কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে। বিশেষ করে পশ্চিমের ৫-৬টি জেলায় দুপুরের দিকে লু-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।"

সোমবার আটটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি রয়েছে—উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।