Rajganj BDO News: কলকাতার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে এবার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের। অভিযুক্ত বিডিও-কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Rajganj BDO News: নিউটাউনের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় এবার কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিলো দেশের শীর্ষ আদালত। জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবারের মধ্যে নিম্ন আদালতে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ জানায়, অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন প্রশান্ত বর্মণ।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট রাজগঞ্জের বিডিও-র আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল। সেই সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ৭২ ঘন্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। সোমবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ করার পরে ওই বিডিও জামিনের আবেদন করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে যে, তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ নিম্ন আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারবে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

উল্লেখ্য, কলকাতার নিউটাউনের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে এবার নাম জড়ায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও-র। স্বপন কামিল্যা নামে মৃত ওই ব্যবসায়ীর পরিবার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও সেই সময় অভিযোগ অস্বীকার করেন রাজগঞ্জের বিডিও। গত ২৮ অক্টোবর যাত্রাগাছির খালধার থেকে স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার দিলমাটিয়া গ্রামে।

সল্টলেকের দত্তাবাদে তাঁর একটি সোনার দোকান রয়েছে। গত অগাস্টে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বাড়ি থেকে কিছু সোনার গয়না চুরি যায়। পরবর্তীতে বাড়ির কেয়ারটেকার জানান, চুরি যাওয়া সোনা স্বপন কামিল্যার কাছে বিক্রি করেছেন। সেই মতো রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ পশ্চিম মেদিনীপুরে স্বপন কামিল্যার বাড়ি যান। স্বপন বাড়িতে সেইসময় ছিলেন না। অভিযোগ, তাঁকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন বিডিও। এমনই একটি ভিডিয়ো মোহনপুর থানার হাতে তুলে দিয়েছে স্বপনের পরিবার। পরে স্বপন কামিল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রাজগঞ্জের বিডিও।

সেইসময় সোনার গয়না ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। সেইমতো গত ২৭ অক্টোবর দত্তাবাদে স্বপন কামিল্যার সোনার দোকানে এসে উপস্থিত হন প্রশান্ত বর্মণ। তাঁর সঙ্গে আরও জনা পাঁচেক লোক ছিলেন। অভিযোগ, স্বপন ও তাঁর বাড়ির মালিককে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। এবং নিউটাউনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। কিছুদূর যাওয়ার পরই বাড়িওয়ালাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। স্বপনকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা বলতে পারেননি বাড়িওয়ালা।এর পরদিন যাত্রাগাছিতে খালধারে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় স্বপনের। মৃতদেহ পাঠানো হয় আরজি কর হাসপাতালে।

দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। গত ৩১ অক্টোবর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় স্বপনের শ্যালক দেবাশিস কামিল্যা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে অপহরণ করে খুন ও তথ্য প্রমাণ লোপাট ধারায় মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলায় সোমবার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলো আদালত। 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।