মালদায় ক্রমশই চড়ছে রাজনীতির পারদ। আবারও তৃণমূল নেতার হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে। এবার অবশ্য মালদার তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, বিরোধী দলনেতাকে ভোটের পরে গাধার পিঠে করে ঘোরানো হবে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি।
ভোটের পর বিরোধী দলনেতাকে গাধার পিঠে চাপিয়ে ন্যাড়া করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে ঘোরাবো, কলম বাগানে। বিজেপির পাল্টা সভা থেকে শুভেন্দুকে বেনজির আক্রমণ রহিমের। পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি। কনকনে শীতেও চড়ছে রাজনীতির পারদ।
শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি
কনকনে শীতে মালদার চাঁচলে তাপমাত্রার পারদ নিম্নমুখী হলেও বছরের শুরুতে রাজনীতির পারদ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। বিজেপি এবং তৃণমূল জুজুধান দুই পক্ষের নেতৃত্বের বাকযুদ্ধে এবং পারস্পরিক আক্রমণে বাড়ছে উত্তাপ। নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে চাঁচল কলমবাগান ময়দানে জনসভা থেকে জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি, জেলা তৃণমূল সহ-সভাপতি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্য়ায়-সহ একাধিক নেতৃত্বকে বেনজির আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন জেলা তৃণমূল সভাপতি। দুর্নীতিবাজ চাকরি চোর বলে আক্রমণ করেন। প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে চরিত্রহীন বলে কটাক্ষ করেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই কলমবাগানেই আজ পাল্টা সভা করে তৃণমূল। সেখানেই মঞ্চ থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করেন।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা আব্দুর রহিম বক্সি বলেন,"আপনি এত মিথ্যাচার করছেন। অনলাইনে গুজরাট থেকে একটা গাধা অর্ডার করেছি। ভোটের পর আপনাকে সেই গাধার পিঠে চাপিয়ে মাথা ন্যাড়া করে চুনকালি মাখিয়ে পাঠাবো।" সঙ্গে রহিমের হুশিয়ারি,"আমরা সেদিন যদি মনে করতাম একটা ইশারা করলে শুভেন্দুও থাকতো না। কোনো প্যান্ডেল থাকত না।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও নাম না করে কটাক্ষ করেন। তৃণমূলের অন্যান্য নেতারাও এদিন তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপি সহ শুভেন্দু অধিকারী।অন্যদিকে রহিম বক্সির মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির কটাক্ষ রহিম বক্সি যার ছবি দেখে ভোটের প্রচার করবেন তাকে হারিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী। মালদার মানুষ রহিম বক্সিকে গাধার পিঠে চাপাবে।
আগের হুঁশিয়ারি
এর আগে শুক্রবার মালদার চাচলের কলমবাগানে ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জনসভা। ঠিক তার আগেই বিরোধী দলনেতাকে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে দেখে নেবার হুংকার দিয়েছিলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির। তিনি বলেছিলেন কলকাতা থেকে আসা বিজেপি নেতৃত্বদের বাড়ি ফিরতে দেওয়া হবে না'। তাঁর কথায় ছিল প্রচ্ছন্ন হুমকি। বিজেপির নেতা কর্মীদের, গলায় গরুর মতন ডঙ্কা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুংকারও দেন তিনি।

