Mamata Banerjee: সিঙ্গুরে রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রীর সভা ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। বুধবার হুগলি জেলার সিঙ্গুরে সভা করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে কী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী? সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল। 

Mamata Banerjee: প্রধানমন্ত্রীর সভার পাল্টা সভা মুখ্যমন্ত্রীর। ২৬ এর ভোটের আগে সিঙ্গুর নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে। বুধবার সিঙ্গুরে হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা। মোদীর সভার ১০ দিন পর হতে চলেছে এই সভা। এদিকে রাজ্যের সর্বোচ্চ নেত্রীর সভার ২৪ ঘন্টা আগে মঙ্গলবারই সেই সভার স্থল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না।

 বেচারাম মান্না বলেন, ''সিঙ্গুরের পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে মোদী মিথ্যা, কুৎসা, অপপ্রচার করে গিয়েছেন। বাংলাকে অপমান করে গিয়েছেন। বাংলাকে বিগত কয়েক বছর ধরে বঞ্চনা করে চলছেন। বাংলার এই বঞ্চনার জবাব মুখ্যমন্ত্রী এই সভা থেকে দেবেন। মোদী সিঙ্গুর, হুগলি, বাংলাকে কিছু দিতে পারেননি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে উন্নয়নের ডালি নিয়ে আসছেন।''

সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি:- 

সূত্রের খবর, মোদীর সভা যেখানে হয়েছিল সেখান থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে হচ্ছে মমতার সভা। এ বিষয়ে বেচারাম মান্না বলেন, ''মোদীর সভায় ৪০ হাজার লোক হয়েছিল। এখানে দু লক্ষের বেশি লোক আসবে তাই এই জায়গায় সভা করা হচ্ছে।'' এছাড়াও নরেন্দ্র মোদীর সভায় ৪০ হাজারও লোক হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী সভায় দু লক্ষ লোকের টার্গেট, সিঙ্গুরে বললেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না।

বিধানসভা ভোটের আগে হটস্পট "সিঙ্গুর"। ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে টাটার মাঠে একাধিক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস ও জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার জনসভার ১০দিন পর সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় ২৮ জানুয়ারি অর্থাৎ বুধবার সিঙ্গুরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের সহায়তা প্রদান করবেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে তৃণমূলের দলীয় পতাকায়। মঙ্গলবার মাঠ পরিদর্শনে যান তৃনমূল নেতৃত্ব।

উল্লেখ্য ,সিঙ্গুর ঘিরে এক সময় তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানার জন্য কাজ শুরু করেছিল টাটারা । জোর করে কৃষকদের থেকে জমি দখলের অভিযোগে আন্দোলনে নামে তৃণমূল। এরপর ২০১১ রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল হয়। ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।২০০৮ সালে সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটের সানন্দে পাড়ি দেয় টাটা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালে কৃষকদের জমি ফেরত দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সেই জমিতে চাষ করতে পারেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের একাংশের। এখন ওই জমিতে অনেকেই শিল্প চাইছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে শিল্প শিল্প হাওয়া তুলেছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুর বা শিল্প নিয়ে একটিও কথা না বলায় সেই শিল্পের ভাবনায় জল পড়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রীর থেকেও উন্নয়ন কর্মসংস্থান নিয়ে কথা শুনতে চান সিঙ্গুরবাসী। আর এ নিয়েই পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ। 

তিনি বলেন, ‘’মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে পাল্টা সভা করতে আসছেন। যে শিল্পকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতিতে উত্থান হলো, সেখানে শিল্প কোথায়? আর তার শিল্প মানেই চপ শিল্প। বিবাদ মিটিয়ে সিঙ্গুরে সত্যিকারের শিল্প নিয়ে আসুন। তিনি যেসব শিল্পার কথা বলেন সেখানে কোন কর্মসংস্থানে কথা তিনি বলেন না। চাষীদের না ঠকিয়ে এবং এখানকার মানুষদের না ঠকিয়ে তিনি সত্যি কারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন তাহলে সিঙ্গুর এবং হুগলিবাসীর লাভ হবে।'' 

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।