বাঁকুড়ার বেলবনি গ্রামে ঠাকুরপুকুর এর জল গোটা গ্রামবাসীর জন্য এক আশীর্বাদ স্বরূপ জল। যেই জল দিয়ে এখনো পর্যন্ত রান্না খাওয়া চলে।

বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রোডের পাশে অবস্থিত একটি বেলবনি গ্রাম। যেখানে 'ঠাকুর পুকুর' নামে একটি পুকুর এক আশ্চর্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে গ্রামবাসী পানীয় জল ও রান্নার জন্য এই পুকুরের জলের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। যদিও তাদের বাড়িতে জলের কল আছে। পুকুরের গভীর থেকে আসা এই জলকে 'ঠাকুর জল' বলা হয় এবং এটি গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনধারণের একমাত্র উৎস। এই ঘটনার কারণ জল সংকটের সাথে সম্পর্কিত এবং এটি বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া অঞ্চলের একটি সাধারণ সমস্যা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বর্তমানে বাংলার ঘরে ঘরে জল সরবরাহের পাইপলাইন পৌঁছে গেলেও এই গ্রামের বাসিন্দাদের আস্থা এখনও একটাই- গ্রামের 'ঠাকুর পুকুর'। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রোডের ধারে শান্ত-নিবিড় বেলবনি গ্রামেই এই আশ্চর্য পুকুরের অবস্থান।

যার জলের উপর নির্ভর করে গোটা গ্রামের জীবনযাত্রা। যতই ঘরে ঘরে জল সরবরাহ হোক, এখনও প্রত্যেক দিন ভোর হতেই পুকুরপাড়ে জমে যায় গ্রামবাসীর ভিড়। কেউ কলসি, কেউ বোতল, কেউ আবার বালতি হাতে জল তোলেন।কেউ রান্নার জন্য, এমনকি অনেকে পানীয় জল হিসেবেও সরাসরি এই পুকুরের জলই ব্যবহার করেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি। গ্রামে টাইম কল থাকলেও সেই জলের প্রতি মানুষের ভরসা নেই।

রান্না থেকে শুরু করে পানীয় জল ব্যবহার করা, সবক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় ঠাকুর পুকুরের জল। আজও এই জলকেই চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের দাবি, এই জলেই নাকি রান্না হয় সবচেয়ে ভাল। সবচেয়ে বড় বিষয় এতদিন ধরে এই জল খেয়ে কেউই অসুস্থ হননি।

তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, ঠাকুর পুকুরের জলে রয়েছে দেবতার আশীর্বাদ ও পবিত্রতা। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পুকুরের জলই তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই পুকুরের জল ব্যবহারে কিছু নিয়ম আছে এবং আছে এক প্রগাঢ় বিশ্বাস যা হলো:

এই পুকুরে স্নান, কাপড় কাচা বা বাসন মাজা একেবারেই নিষিদ্ধ। এই জল তাঁদের কাছে কেবল প্রয়োজন নয়, এটি বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

অবস্থান: বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে, বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রোডের পাশে অবস্থিত বেলবনি গ্রাম।

আশ্চর্য ঘটনা: গ্রামের বাড়িতে পানীয় জলের কল থাকা সত্ত্বেও, গ্রামের লোকেরা তা ব্যবহার না করে 'ঠাকুর পুকুর' থেকে জল পান করে এবং রান্না করে।

পুকুরের জল: এই পুকুরের জলকে 'ঠাকুর জল' বলা হয় এবং এটি সম্পূর্ণ গ্রামবাসীর জীবনধারণের প্রধান উৎস।

কারণ: বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া অঞ্চলে জল সংকট একটি পরিচিত সমস্যা এবং এই ঘটনাটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ।