মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে মাত্র ৬ দিনের গরমের ছুটি ঘোষণা করেছে, যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুজোর ছুটি ২৫ দিন অপরিবর্তিত থাকলেও, মোট ছুটির সংখ্যা সীমিত রাখতে গিয়েই গ্রীষ্মাবকাশ কমানো হয়েছে বলে পর্ষদের যুক্তি। 

Summer Vacation: সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারিভাবে ঘোষিত বিভিন্ন উৎসবের ছুটির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, মোট ছুটির সীমা বজায় রাখতে গিয়েই কোপ পড়েছে গরমের ছুটিতে। পর্ষদের আধিকারিকদের যুক্তি, পরিস্থিতির প্রয়োজনে রাজ্য সরকার আলাদাভাবেও ছুটি ঘোষণা করে থাকে, তাই মডেল তালিকায় গরমের ছুটির সংখ্যা সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলির ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। তবে এই তালিকায় গরমের ছুটির বরাদ্দ সময় দেখে রীতিমতো হতবাক শিক্ষক মহল ও অভিভাবকরা। পর্ষদের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি দেওয়া হয়েছে মাত্র ৬ দিন।

কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত ছুটি কি আদেও বাস্তবসম্মত? আদৌ কি এই ছুটি বাড়বে? এই নিয়ে এখন জল্পনা রয়েছে। পর্ষদ প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গ্রীষ্মাবকাশ ধার্য করা হয়েছে। পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বছরে মোট ৬৫ দিনের বেশি ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, গরমের ছুটি কমলেও পুজোর ছুটিতে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। ২০২৬ সালে ১৫ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৫ দিন পুজোর ছুটি ধার্য করেছে পর্ষদ।

এখন দেখার বিষয়, আগামী বছরের তীব্র গরমের মোকাবিলায় পর্ষদ তার 'মডেল' তালিকা আঁকড়ে থাকে, নাকি পরিস্থিতির চাপে গরমের ছুটি বাড়ানোর পথে হাঁটে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। 'শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের' মতো শিক্ষক সংগঠনগুলি এই ৬ দিনের ছুটিকে 'অবাস্তব' বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে মে মাসে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। লু পরিস্থিতি এবং অসহ্য গরমে মাত্র ৬ দিন ছুটি দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

আদৌ ছুটি বাড়বে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে বিগত বছরগুলির অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে দেখা যায়, আবহাওয়া পরিস্থিতির চাপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগে বা বেশি দিন ছুটি ঘোষণা করে থাকেন। ২০২৫ সালেও ১১ দিনের গ্রীষ্মাবকাশ থাকলেও তীব্র গরমের কারণে তা প্রায় এক মাস পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়েছিল। তাই ২০২৬ সালেও যদি মে মাসে তাপপ্রবাহ অসহনীয় হয়ে ওঠে, তবে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দপ্তর যে এই ৬ দিনের ছুটি বাড়াতে বাধ্য হবে, তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শিক্ষক প্রতিনিধিদের দাবি, সরকার যেন পূর্বের ৮৫ দিনের ছুটির ব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়, যাতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কুলগুলি ছুটি সমন্বয় করতে পারে।