কলকাতায় তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ কমে ১০ ডিগ্রিতে নেমেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে চার ডিগ্রি কম। এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে স্কুল খোলায় শিশু ও অভিভাবকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সরকার, এবার কি তবে শীতেও পড়বে স্কুল ছুটি?

কলকাতার ভোর এখন আর শুধু ঘুম ভাঙার সময় নয়—ভোর মানেই লড়াই। কম্বলের ভাঁজ ছেড়ে উঠতে হচ্ছে দাঁতে দাঁত চেপে। জানালা খুললেই কনকনে হাওয়ার ধাক্কা। এমন ঠান্ডা এই শহর বহুদিন দেখেনি বলেই মত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের।

মঙ্গলবার শহরের পারদ নেমেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় চার ডিগ্রি কম। দিনে সূর্যের দেখা মিললেও উষ্ণতার ঘাটতি স্পষ্ট। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করায়, সারাদিনই শীতের কামড় অনুভূত হচ্ছে।

এই অস্বাভাবিক ঠান্ডার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিশুদের উপর। বড়দিনের ছুটি শেষ। ফের শুরু হয়েছে সকালবেলা স্কুল। ভোরবেলায় ঘুমন্ত শিশুদের বিছানা থেকে তুলে স্কুলের পোশাক পরানো—অভিভাবকদের কাছে যেন একরকম যুদ্ধ। অনেকেই বলছেন, ঠান্ডায় বাচ্চাদের জ্বর-সর্দির আশঙ্কা বেড়েছে।

উত্তর ভারতের স্কুলপড়ুয়ারা যেখানে এমন শীতের সঙ্গে অভ্যস্ত, সেখানে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় এই পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী। সমস্যা আরও প্রকট সরকারি স্কুলগুলিতে। বহু জায়গায় শ্রেণিকক্ষের জানালা-দরজা পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেই। ফলে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে পড়ছে সরাসরি।

এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—স্কুল কি খোলা রাখা উচিত? শিক্ষা দফতরের তরফে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। নবান্ন সূত্রে খবর, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সংক্রান্তির আগে শীতের দাপট কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

জেলা ও গ্রামাঞ্চলে অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। কোথাও কলকাতার তুলনায় তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কম। ফলে ছোট শিশুদের শারীরিক অসুবিধার খবরও মিলছে।

অতীতে চরম গরমে পড়ুয়াদের স্বার্থে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শীতের ক্ষেত্রেও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে অভিভাবক মহল। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে স্কুল সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত।