লখনউয়ের আলিগঞ্জের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ আগুনে যে ১৫ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ২৯ বছরের তরুণী অনামিকা সামন্ত। মেয়ের মৃতদেহ নিতে উত্তরপ্রদেশে পৌঁছেছে তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবার। অনামিকা সেখানে একজন থ্রিডি অ্যানিমেশন আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। 

মঙ্গলবার লখনউতে এসে পৌঁছল পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এক বিধ্বস্ত পরিবার। উদ্দেশ্য, মেয়ের কফিনবন্দি দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়া। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে বিধ্বংসী আগুনে যে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যেই ছিলেন ২৯ বছরের অনামিকা সামন্ত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মেয়ের মৃত্যুতে বিধ্বস্ত বাবা

মৃতার বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, অনামিকা বেশ কয়েক বছর ধরেই লখনউতে কাজ করছিলেন। তিনি একজন থ্রিডি অ্যানিমেশন আর্টিস্ট ছিলেন। কান্নাভেজা গলায় তিনি বলেন, "মেয়েটা গত তিন বছর ধরে এখানে থ্রিডি অ্যানিমেশনের কাজ করছিল। এখানকার স্থানীয় থানা থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আমাদের জানানো হয়, ও আগুন থেকে বেরোতে পারেনি, সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। আমরা কলকাতা থেকে এসেছি।"

অনামিকার ভাই আকাশ জানান, আগের দিন সকালেই বোনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। সপ্তাহখানেক আগেই তাঁদের বাবা-মা লখনউতে মেয়ের কাছে ঘুরে পশ্চিমবঙ্গে ফিরেছিলেন।

আকাশ বলেন, "ও এই কোম্পানিতে তিন বছর ধরে ছিল। এর আগে আরও দু-চারটে কোম্পানিতে কাজ করেছে। ওর মোট ছয়-সাত বছরের অভিজ্ঞতা ছিল।" তিনি আরও জানান, ভালো চাকরির সুযোগ পেয়ে লখনউ আসার আগে অনামিকা চণ্ডীগড়ে কাজ করতেন।

পোস্টমর্টেম হাউসের বাইরে দাঁড়িয়ে আকাশ বলেন, "ওর সঙ্গে রোজ কথা হতো। কাল সকালেই শেষবার কথা হয়। তারপর থেকে আর ফোন তোলেনি।" এখানেই মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের বার্তা

অ্যাম্বুলেন্স চালক দুষ্মন্ত ত্রিপাঠী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে তাঁকে লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (কেজিএমইউ) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃতদের দেহ নিজ নিজ শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি এএনআই-কে বলেন, অনামিকার মৃতদেহ সড়কপথে তাঁর নিজের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হবে। ওই চালক বলেন, "আমরা বারাবাঙ্কি থেকে সন্ধে ৬টায় এখানে এসেছি। সিএমও অফিস থেকে আমাদের পাঠানো হয়েছে।" তাঁকে অনামিকার দেহ নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, "...আমরা ওঁর পরিবারের সঙ্গে সমানে যোগাযোগ রেখেছি... ওঁর বাবা ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁকে আনার জন্য একটি সরকারি গাড়ি পাঠানো হয়েছে... পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছতে কমপক্ষে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে... মোট ১৫ জন মারা গিয়েছেন... আরও একজন বাংলার আর একজন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা আছেন।"

লখনউয়ের আলিগঞ্জের তিনতলা ওই বিল্ডিংটিতে একটি গেমিং এবং অ্যানিমেশন স্টুডিও ছিল। গতকালের আগুনে মৃত ১৫ জনের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ওই স্টুডিওর ছাত্র, প্রশিক্ষণার্থী এবং কর্মী।

কড়া যোগী আদিত্যনাথ

এদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আলিগঞ্জ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১০, ১০৫, ১২৫ এবং ৩(৫) ধারার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ফায়ার সার্ভিস আইনের ৬ এবং ১০ ধারায় ছয়জন অভিযুক্ত এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় রামকৃষ্ণ উপাধ্যায়, বীরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষাক কৃষ্ণ জয়সওয়াল নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।