মার্চে এখনও পর্যন্ত বদলি করা হয়েছে কোন কোন পুলিশ আধিকারিককে? রিপোর্ট চাইল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট রবিবার প্রকাশ করেছে Election Commission of India। ঘোষণা অনুযায়ী, এ রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে। সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এত কম দফায় নির্বাচন খুব একটা দেখা যায়নি, তাই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। ভোট ঘোষণার পরপরই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে কমিশন। রবিবারই রাজ্য পুলিশের এডিজি (লিগ্যাল) এবং পুলিশের নোডাল অফিসারকে চিঠি পাঠিয়েছেন অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। 

সেখানে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে রাজ্যে কোন কোন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। শুধু তালিকাই নয়, বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকার প্রতিলিপিও দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অবসরের পরে কোনও পুলিশ আধিকারিককে বর্তমানে কোনও পদে নিয়োগ করা হয়েছে কি না, সেই তথ্যও চেয়েছে কমিশন। এছাড়াও ভোটকে কেন্দ্র করে অতীতের অশান্তির ঘটনাগুলিও খতিয়ে দেখতে চাইছে কমিশন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরে যে সব এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছিল, সেই সময় সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। কয়েক দিন আগেই এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে তথ্য তলব করা হয়েছিল। ভোট ঘোষণার পর আবারও সেই তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। 

এবার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে—সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যেই ওই তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশাসনিক স্তরেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাতেই রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরানো হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty)-কে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জগদীশ প্রসাদ মিনা (Jagadeesh Prasad Meena)-কে। নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা (Dushmanta Nariala) এবং স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সংঘমিত্রা ঘোষ (Sanghamitra Ghosh)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যেই তাঁদের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।