২০১৯ থেকে  শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলার দায়িত্ব আর নিতে চাইছে না বিশ্বভারতী।  প্রথামাফিক অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলি হলেও দীর্ঘ আলোচনার পরে মেলা থেকে হাত তুলে নেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। 

ফিরে দেখা পৌষমেলার ইতিহাস

১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাক্ষ্মধর্ম গ্রহণের অনুষ্ঠান থেকেই পৌষ উৎসবের শুরয়াত। ১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর মাসে শান্তিনিকেতনে একটি ব্রাক্ষ্মমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেই মন্দিরের উলটো দিকের মাঠে প্রথম পৌষমেলায় হয় ১৮৯৪ সালে। পরে এই মেলা পূর্বপল্লীর মাঠে ফিরে যায়। মেলাটি ধীরে ধীরে শান্তিনিকেতনের প্রাণ হয়ে ওঠে। বাংলার বাউল দরবেশরা জড়ো হত এই মেলায়। প্রাণের টানে ছুটে আসত গোটা রাজ্যের মানুষ। এবার সেই মেলাই বন্ধ করতে চাইছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেন?

কেন মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত? 

মঙ্গলবার প্রেস বিবৃতি দিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, তা আদালত ও দেশের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের শর্তাবলী পূরণ করে পৌষমেলা পরিচালনা করতে অক্ষম। নিতান্ত নিরূপায় হয়েই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন তাঁরা। আদালতে ও অন্য প্রতিষ্ঠানের শর্তাবলী বলতে মেলা কর্তৃপক্ষ বোঝাতে চাইছেন, প্রতি বারই মেলার জন্যে আদালতের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে বিশ্বভারতীকে। পরিবেশবিধি ভঙ্গের মামলা হচ্ছে সংস্থার বিরুদ্ধে। অথচ এই মেলার আয় বিশ্বভারতীর তহবিলে পড়ে না। তাই মেলার দায়ও নিতে চাইছে না কর্তৃপক্ষ।

যা পরে থাকল

বিবৃতিতে জানানো হচ্ছে, মেলা না হলেও প্রতিবারের মত পৌষ উৎসবের কৃত্যাদি, আশ্রমিকদের স্মরণ, মহর্ষি স্মারক বক্তৃতা, প্রতিষ্ঠা-বার্ষিকী পালন, সমাবর্তন বা খ্রিস্টোৎসব যথোচিত মর্যাদাতেই পালিত হবে।