ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে মহিলাদের সঙ্গে চলত অশ্লীল চ্যাট। নিজের নগ্ন ছবিও মহিলাদের পাঠাত বিজেপি নেতা। স্ত্রীয়ের হাতে একাধিকবার ধরা পড়েও সতর্ক হয়নি সে। শেষ পর্যন্ত নিজের স্বামীর কুকীর্তির কথা বিজেপি নেতার ফেসবুক প্রোফাইলে ছড়িয়ে দেন তার স্ত্রী। সেই আক্রোশে নিজের স্ত্রী পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে গ্রেফতার হল দুর্গাপুরের বিজেপি-র শিক্ষা সেলের এক নেতা। 

অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতার নাম চিরঞ্জিৎ ধীবর। অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে মঙ্গলবারই দুর্গাপুর মহিলা থানার পুলিশ দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করেছে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা চিরঞ্জিত ধীবর ২০১৭ সালে পুরসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী হয়। এ ছাড়াও  বর্তমানে আরএসএস-এর শিক্ষক সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদক পদে নিযুক্ত রয়েছে চিরঞ্জিৎ ধীবর। পেশায় তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। 

আরও পড়ুন- শোভন,বৈশাখী ভাত-ডাল, এ কেমন মন্তব্য় দিলীপের

অভিযুক্তের স্ত্রী সন্ধ্যা সাহা জানিয়েছেন , দুর্গাপুর  স্টিল টাউনশিপের বাসিন্দা  চিরঞ্জিত ধীবরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রেই প্রায় ৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় দু'বছর পরে তাঁদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এর পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে অশান্তির কারণে চিরঞ্জিৎ ধীবর স্ত্রী ও পুত্রসন্তানকে নিয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পল্লি এলাকায় বাড়ি নিয়ে থাকতে শুরু করে।
 

সন্ধ্যাদেবীর অভিযোগ, চিরঞ্জিৎ ধীবর রাত জেগে লুকিয়ে ফেসবুকে একাধিক মহিলা ও যুবতীর সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় ও নিজের শরীরের বিভিন্ন ছবি দিয়ে ভিডিও দিয়ে চ্যাট করত। গত বছর দুর্গাপূজোর আগে একবারে হাতেনাতে ধরা পরে গেলে চিরঞ্জিৎ ধীবর সমস্ত বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনের কাছে। অভিযোগ, এর পরেও একাধিক বার ফেসবুকে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে একইভাবে মহিলাদের সঙ্গে অশ্লীল চ্যাট চালিয়ে যায় চিরঞ্জিৎ। নিজের নগ্ন ভিডিও-ও মহিলাদের পাঠাতো সে। চলতি মাসে ফের ধরা পড়েও যাওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে বচসা শুরু হয় চিরঞ্জিতের। এর পরেই স্ত্রী সন্ধ্যা সাহা চিরঞ্জিৎ ধীবরের প্রোফাইল থেকে মহিলাদের সঙ্গে চ্যাটিং করা তথ্য নিয়ে  ওই বিজেপি নেতার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করে দেন। এছাড়াও বিজেপি-র স্থানীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সহ সোশ্য়াল মিডিয়াতেও তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন কী, সাংবাদিকদেরও সমস্ত তথ্য ও ছবি দেয় স্ত্রী সন্ধ্যা সাহা। 

এর পরেই সাংসারিক অশান্তি চরমে ওঠে বলে অভিযোগ। সন্ধ্যাদেবী দুর্গাপুর মহিলা থানার অভিযোগ জানান। অভিযোগ, সোমবার রাতে হঠাৎই চিরঞ্জিৎ ধীবর সন্ধ্যাদেবীর গায়ে আগুন লাগিয়ে খুন করার চেষ্টা করে এবং আড়াই বছরের পুত্র সন্তানকে কুয়োর জলে ফেলে খুন করার হুমকি দেয়। এর পরেই সন্ধ্যাদেবীর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে যান। দুর্গাপুর মহিলা থানার পুলিশ এসে চিরঞ্জিৎ ধীবরকে গ্রেফতার করে। 

অভিযুক্ত বিজেপি নেতা চিরঞ্জিৎ ধীবরের অবশ্য দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি এই ধরনের কোনও কাজই করেননি। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর মহিলা থানার পুলিশ।