দলের বিদ্রোহী বিধায়ক, সাংসদ ও নেতা নেত্রীদের ঘরে ফেরার বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এনিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বলেছেন, বিদ্রোহীরা দলে ফিরলে তিনি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেবেন। প্রথম যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলেন অভিষেক। পরে সময় কমিয়ে এক ঘণ্টা করেন।
দলের বিদ্রোহী বিধায়ক, সাংসদ ও নেতা নেত্রীদের ঘরে ফেরার বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এনিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বলেছেন, বিদ্রোহীরা দলে ফিরলে তিনি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেবেন। প্রথম যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলেন অভিষেক। পরে সময় কমিয়ে এক ঘণ্টা করেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, "যারা বলছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দল হেরেছে, তাঁদের বলব তাহলে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে দলের জেতাটা আমার কৃতিত্ব। আমি সেই সমস্ত বিধায়ক, নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি তাঁরা দলে ফিরে আসুন। আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। আচ্ছা, ২৪ ঘণ্টা নয়, এক ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব।" অভিষেক যখন এই কথাগুলো বলছিলেন, তখন তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল ঘোষ।
এদিকে, বিদ্রোহীদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। খোদ নেত্রীকে 'আল্টিমেটাম' কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, "দিদিকে বলে দিয়েছি যারা চলে গেছে, তাদের দলে ফেরালে আপনার সঙ্গে থাকব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলে দিয়েছি, ওদের ফেরালে আমি আর থাকব না।"
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে প্রশাসনের নির্দেশে চলল বুলডোজার। পাঁচতলা কার্যালয় বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগ। অভিষেকের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর বিজেপি কর্মীদের। তাঁদের সরিয়ে দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিষেকের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের জন্য ১৬টি ট্রাঙ্ক নিয়ে হাজির প্রশাসন। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদে কোনও প্রতিনিধি হাজিরা দেননি। অভিষেকের ওই সাংসদ কার্যালয় নথিভুক্ত লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কাছে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তির নামে নোটিশ দেওয়া হয়। শুনানির জন্য ৩০ জুন ও ৭ জুলাই জোড়া নোটিশ পাঠানো হয়। ১৫ জুলাই শুনানিতে ডাকা হলেও কেউ আসেননি, দাবি জেলা প্রশাসনের। এরপরেই কর্তৃপক্ষ সরকারি নিয়ম মেনে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করার পদক্ষেপ নেয়। এলাকায় প্রচুর মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট যতদূর যাওয়ার যাব, আইনত এদের ব্যবস্থা করব। আমার ওখান থেকে বুথ দখল হত? সব মিথ্যে অভিযোগ। বিজেপির কোন বুথে এজেন্ট বসতে পারেনি তার তালিকা দিতে বলুন না। ২০২৪-এ যখন অভিযোগ জমা, স্ক্রুটিনি হচ্ছিল তখন বলতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনই দেখে তৃণমূল তো দেখে না। নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা। ১৪-এ দাঁড়িয়েছিল গো-হারা হেরেছে, ২৪-এ দাঁড়িয়েছিল গো-হারা হেরেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি করে চলেছে। এর বিচার মানুষ করবে। আমার মানুষের উপর বিশ্বাস আছে।"
বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যেও কড়া বার্তা দেন অভিষেক বলেন, “যারা ওই সব দলে গেছে তারা এখন নিজেদের বাঁচাতে বিজেপির দেওয়া স্ক্রিপ্ট-এ কথা বলছে। আমাকে যারা গালি দেবে, তারাই পুলিশের থেকে বাঁচবে। এতই যখন আমাকে নিয়ে সমস্যা তাহলে ৪ তারিখের আগেই চলে যেতে পারত। এখন হারের দায় যদি আমার হয় তাহলে ২৪ এর জয়ের কারণও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিল। আপনারা দলে ফিরুন, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। সেটাও নয়, আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব।”
