দিল্লি, বিহার, হায়দরাবাদের গণধর্ষণ নিয়ে উত্তাল হয়েছে গোটা দেশ। কিন্তু ধর্ষণের মত সামাজিত ব্যাধি থেকে বাদ গেল না এরাজ্যও। একই দিনে দুই বঙ্গে লালসার শিকার হলেন দুই তরুণী।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের একই দিনে দু'বার গণধর্ষণের শিকার হলেন এক তরুণী। বছর সাতাশের ওই তরুণী হরিহরপুর এলাকার বাসিন্দা। ধনকৈল মোড়ে একটি হোটেলে তিনি দিন মজুরের কাজ করতেন। স্বামী থাকেন দিল্লিতে। বর্ষবরণের রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার সময় সুজন বর্মণ ও শিবু বর্মণ নামে দুই যুবক তাকে রাস্তা থেকে তুলে এক নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেই ওই তরুণীকে জোর করে মদ্যপান করিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। 

আরও পড়ুন : ফের রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ড, ধ্বংসস্তূপে আটকে দমকলকর্মীরাও

এখানেই অবশ্য নির্যাতনের শেষ হয়নি। তরুণী পাশবিক অত্যাচার শেষে বাড়িরে উদ্দেশ্যে রওনা দিলে তার পথ আটকায় নকুল মহন্ত নামে এক ব্যক্তি। নকুল তরুণীকে নিজের গাড়িতে তুলে ধর্ষণ করে বলে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ। রাতে তরুণী বাড়ি না ফেরায় তার খোঁজে বের হন পরিজনরা। রাত তিনটে নাগাদ ধনকৈল মোড়ে তরুণীকে একা বসে কাঁদতে দেখেন তার মা। ইতিমধ্যে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে শিবু বর্মণ ও নকুল মহন্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের রায়গঞ্জ জেলা আদালতে পাঠান হয়। আরেক অভিযুক্ত সুজনের খোঁজে তল্লাশি চালান হচ্ছে। 

দেখুন ভিডিও: গজগামিনী চালে মাত হলেন দর্শকরা, অভিনব বিউটি কনটেস্ট নেপালে

এদিকে বর্ষবরণের রাতে উত্তর চব্বিশ পরগনার দত্তপুকুর থানা এলাকার বামনগাছির কুলগাছিয়া এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন এক যুবতী। বারাসতের যশোর রোড লাগোয়া একটি কারখানায় কাজ করতেন তিনি। একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বামনগাছিতেই থাকতেন। অভিযোগ ৩১ ডিসেম্বর রাতে তার বাড়িতে হানা দেয় চার যুবক। দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। 

অভিযোগ ধর্ষণে বাধা দিতে গিয়ে নিগ্রহের শিকার হন যুবতীর বাড়ির মালিকও। রাতেই বাড়ির মালিক এলাকার বাসিন্দাদের ডাকতে যান। কিন্তু শীতের রাত হওয়ায় সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। 

যুবতীর জবানবন্দি রেকর্ড করে দত্তপুকুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্ষবরণের রাতে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় রীতিমত আতঙ্কিত বামনগাছি এলাকার মানুষ।