কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন। গতকাল পড়ুয়াদের দাবিদাওয়া নিয়ে সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের সুবিচারের দাবিতে সকল মানুষকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান রাহুল। এই বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা , মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কেসি বেণুগোপালের মতো শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনও এই বিক্ষোভে যোগ দেন।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ একটি পোস্টে লেখেন, পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বরকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা হবে না। রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স পোস্টে বলেন, "ছাত্রদের ওপর আক্রমণ মানে প্রত্যেক ভারতীয় পরিবারের ওপর আক্রমণ। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভাবছেন তিনি কোনও উত্তর না দিয়েই পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি পারবেন না। এবার অন্তত নয়। আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়কে আবেদন করছি, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সুবিচার পাওয়া উচিত - প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আমাদের ধরনায় যোগ দিন। ভারতের ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যাবে না।"
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর) জিতেন্দ্র সিং প্রতিবাদস্থলে পৌঁছে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে তা নিয়ে দুই নেতাই এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি। জিতেন্দ্র সিং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীও। তাঁরা দুজনে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন। সূত্রের খবর, আলোচনায় কোনও সমাধান সূত্র বার হয়নি।
দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশ কিছু কংগ্রেস নেতাকে আটক করেছে। মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী সহ একাধিক কংগ্রেস নেতাকে আটক করা হয় বলে সূত্রের খবর।
কংগ্রেসের অভিযোগ, সংসদে তাদের নেতাদের কথা বলতে এবং ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা তুলে ধরতে দেওয়া হচ্ছে না।
কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের একটিই সহজ দাবি। আমাদের বিরোধী দলনেতারা লোকসভা এবং রাজ্যসভা, দুই জায়গাতেই এই দাবি তুলেছেন। দাবিটি হলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে এসে এই বিষয়ে স্পষ্ট করতে হবে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে এবং ছাত্রদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার ওপর আমরা তাঁর বিবৃতি চাই। আমরা গত ৪৫ দিন ধরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আসছি।"
রাজীব শুক্লা আরও বলেন, প্রতিবাদ করা ছাড়া দলের কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। "ওরা সংসদে বিতর্ক করতে দিচ্ছে না। তাহলে আমরা আর কী করতে পারতাম? আমাদের রাস্তায় নামতেই হতো।"
সন্দীপ দীক্ষিত অভিযোগ করেন যে সরকার NEET-UG পেপার ফাঁসের বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, "রাহুল গান্ধী সবসময় এই ধরনের বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যেদিন পেপার ফাঁস হয়েছিল, সেদিনই তিনি রাস্তায় নেমেছিলেন। সরকার এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের দেশের প্রত্যেক সেই তরুণের পাশে দাঁড়াতে হবে, যাদের স্বপ্ন ও আশাকে সরকার গতকাল নির্মমভাবে পিষে দিয়েছে।"
এর আগে তাঁরা "গতকাল পড়ুয়াদের ওপর হওয়া বর্বরতার" অভিযোগ তুলে রাজাজি মার্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে একটি পদযাত্রা করেন।
আজ ছিল ৮৪ বছর বয়সী মল্লিকার্জুন খাড়গের জন্মদিন। বিক্ষোভের সময় তাঁকে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর হাতে এক ধরনের ট্যাগ বাঁধা ছিল, যা রাহুল গান্ধী সাংসদ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিলি করছিলেন। পরে খাড়গেকে একটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক হওয়ার পর বাসের ভেতর থেকে কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ বলেন, "আমাদের পড়ুয়াদের ওপর খুব নিষ্ঠুরভাবে হামলা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছুই বলছেন না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও চুপ। তাই লোকসভা ও রাজ্যসভার কংগ্রেস সাংসদরা প্রতিবাদ করছেন।"
এই বিক্ষোভটি মূলত একদিন আগে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ছিল। কংগ্রেস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের দাবি খুব স্পষ্ট: নিট পেপার ফাঁসের দায় কেন্দ্রকে নিতে হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এর আগে আজ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং কেসি বেণুগোপাল রাজধানী দিল্লিতে পুলিশি ধরপাকড়ে আহত হওয়া পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন। কংগ্রেসের তরফে বলা হয়, দেশের যুব সমাজের ওপর এই "বর্বরতার" জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও আরএমএল হাসপাতালে গিয়ে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করেন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা গতকাল সিজেপি-র মিছিলের সময় আহত ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করতে আরএমএল হাসপাতালে যান। এই ঘটনায় বেশ কিছু পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।
নাড্ডা সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন। দলটি সরকারের কাছে তাদের দাবিদাওয়া জমা দিয়েছে।