
ভারতে এমন বহু স্থান রয়েছে, কান পাতলেই সেই সব স্থান নিয়ে শোনা যায় রহস্যে ঘেরা অনেক জানা-অজানা কথা। আর তেমনই একটি স্থান হল বৃন্দাবনের নিধিবন মন্দির। প্রচলিত আছে যে, আজও নাকি এই মন্দিরে গোপিনীদের সঙ্গে রাসলীলায় মাতেন শ্রীকৃষ্ণ।
শোনা যায় ঠিক এই কারণেই নাকি, প্রতিদিন সন্ধ্যায় আরতির পরে নিধিবনের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি দিনের নিধিবনের পশু-পাখিরাও অন্ধকার নামতেই নিধিবন ছেড়ে চলে যায়।
আরও পড়ুন- সেনা জওয়ানদের কদম ছাঁট চুল, এমন স্টাইলের আসল কারণ কী
প্রচলিত আছে- ১. সন্ধ্যা হতেই জনসাধারণকে এই মন্দির থেকে বের করে মূল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ এই সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আসেন এবং গোপিনীদের সঙ্গে রাসলীলায় মাতেন বলে অনেকে মনে করেন। এখানেই শেষ নয়, এও প্রচলিত আছে যে, কেউ লুকিয়ে এই রাসলীলা দেখে ফেললে সে পাগল হয়ে যায়। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
২. নিধিবনের মধ্যে রঙ মহল নামে একটি ছোট মন্দির রয়েছে। শোনা যায়, প্রতি রাতে শ্রীকৃষ্ণ, রাধার সঙ্গে এখানে বিশ্রাম করেন। তাই সন্ধ্যার আগেই রঙ মহলে কৃষ্ণের জন্য চন্দনের খাট, জলের পাত্র, রাধার জন্য শৃঙ্গারের সামগ্রী, প্রসাদ, পান সব এখানে রেখে দেওয়া হয়। সমগ্র মন্দির সাজিয়ে তোলা হয়। নিধিবনের সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এই ছোট মন্দিরেরও। সকাল পাঁচটার সময় যখন মন্দিরের মূল দরজা খোলা হয়, তখন দেখা যায় সব আসবাবপত্র সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন কলাপাতায় খাবার খেয়েছেন কখনও, জেনে নিন এর উপকারিতা
৩. নিধিবনের গাছগুলিও বেশ অন্যরকম। প্রতিটি গাছের শাখা নীচের দিকে বাড়তে থাকে। এখানেও গাছগুলি এতো ঘন যে রাস্তা খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
৪. এখানের বিশেষত্ব হল তুলসীগাছ। প্রতিটি তুলসী গাছ এখানে জোড়ায় জোড়ায়। মনে করা হয় রাধা-কৃষ্ণ রাসলীলায় মেতে উঠলে এই তুলসী গাছগুলিই গোপিনী হয়ে ওঠে, আর সকাল হতেই ফের গাছে পরিণত হয়।
৫. শোনা যায়, নিধিবনে বিশাখা কুণ্ড তৈরি করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। বিশাখা নামে এক গোপিনীর তৃষ্ণা মেটাতে কৃষ্ণ নাকি তাঁর বাঁশি দিয়ে কুণ্ড তৈরি করেছিলেন। তখন থেকেই নিধিবনের সেই কুণ্ড ওই গোপিনীর নামেই পরিচিত। রয়েছে এমনই বেশ কিছু জানা-অজানা কাহিনি যা চমকে দেবে প্রতি মুহূর্তে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News