মহিলাদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি খুব সাধারণ একটি পুষ্টিগত সমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিন, আয়রন এবং ফলিক অ্যাসিডের মতো উপাদান কমে গেলেই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
মহিলাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি? শরীর দেয় এই ৭টি জরুরি সঙ্কেত
মহিলাদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি অন্যতম সাধারণ একটি পুষ্টির সমস্যা। রক্তে হিমোগ্লোবিন, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। ২০১৯-২০ সালের ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৫০ শতাংশ মহিলা অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত। বয়স্ক মহিলারা পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার কারণেও এই সমস্যায় ভোগেন।
লোহিত রক্তকণিকায় অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন হল হিমোগ্লোবিন। এটি তৈরির জন্য শরীরে আয়রন দরকার। আয়রনের ঘাটতি হলে শরীর পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। এর থেকেই আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া হয়। ক্লান্তি, দুর্বলতা, ফ্যাকাশে ত্বক, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং ভঙ্গুর নখ এর প্রধান লক্ষণ।
অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিকস, মুম্বইয়ের রিজিওনাল টেকনিক্যাল চিফ ডঃ উপাসনা গর্গ বলেন, 'শুরুতে লক্ষণগুলো খুবই সামান্য থাকে এবং বেশিরভাগ মহিলাই তা উপেক্ষা করেন।' শরীরে আয়রনের অবস্থা বুঝতে তিনটি পরীক্ষা খুব জরুরি—হিমোগ্লোবিন লেভেল, সিরাম ফেরিটিন ও আয়রন লেভেল এবং কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)।
57
দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসার জন্য পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা রক্তে অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিনের মাত্রা মাপে। এই পরীক্ষা থেকে বোঝা যায় কোনও মহিলার অ্যানিমিয়া আছে কি না। অন্যদিকে, সিবিসি (CBC) পরীক্ষা লোহিত রক্তকণিকার আকার ও সংখ্যা-সহ রক্তের একটি সম্পূর্ণ চিত্র দেয়। এর মাধ্যমে শরীর সুস্থ রক্তকণিকা তৈরি করছে কি না, তা জানা যায়। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সময়মতো চিকিৎসার জন্য এই পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
67
হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে আয়রন
আয়রন একটি অপরিহার্য খনিজ। এটি শরীরকে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিন হল লোহিত রক্তকণিকার একটি প্রোটিন, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে, স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হতে পারে না। এই অবস্থাকেই আয়রনের ঘাটতি বা আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া বলা হয়।