কোথাও কোথাও পনেরো দিন ধরে দুর্গাপূজারও প্রচলন আছে। সে ক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী তিথিতে পূজা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহরের মৃন্ময়ী মন্দির এবং অনেক পরিবারে এই রীতি প্রচলিত আছে। 

সনাতন ধর্মে দুর্গা পুজো-সহ সমস্ত পুজোতেই পূর্ণঘটের পুজোর মাধ্যমে মাকে আহ্বান করা হয়। ঘট কে ঈশ্বরের নিরাকার অবস্থার প্রতীক হিসেবে গন্য করা হয়। সেই কারনেই ঘট স্থাপন প্রতি পুজোতে আবশ্যক নিয়ম হিসেবেই পালন করা হয়। পুজোর সময় ভগবানের সাকার এবং নিরাকার দুই রূপেরই পুজো করা হয়। তাই ঘট স্থাপন ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ। 

ঘট স্থাপন করতে লাগে কোনও পবিত্র জলাশয়ের মাটি,ধান,তামা বা পিতলের ঘট, জল, নবপত্রিকা, গোটা ফল, ফুলের মালা, সিঁদূর ও নতুন গামছা লাগে। ঘটের উপর নবপত্রিকার প্রতিটি পাতায় সিঁদূর এর টিপ দিতে হয়। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়াদশমী নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে "দেবীপক্ষ" বলা হয় । 

সাধারণত ঋক, সাম ও যজু বেদ অনুসারে ঘট স্থাপন হয়। সাম বেদ অনুসারে বেশি ঘট স্থাপন হয় তাই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে শ্রেয়। এর পর যে ঠাকুরের পুজো হচ্ছে তার গায়ত্রী জপ করতে হয়। পুজোর সময় ঘট কোনও কারণে হাত থেকে পড়ে গেলে ক্ষমা প্রার্থনা করে নতুন ঘট বসাতে হবে এবং পুজো শেষে ঘট বিসর্জন করতে হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন- তিন জগতে ত্রাস সৃষ্টিকারী মহিষাসুর-কে রুখতে মর্তে অবতারণ করেছিলেন মা চন্দ্রঘন্টা

আরও পড়ুন- পিতৃপক্ষ কবে থেকে শুরু হচ্ছে, এই সময় ভুলেও এই কাজগুলি করবেন না, জেনে নিন প্রতিকার

আরও পড়ুন- দেবী দুর্গার মাটির মূর্তি অসম্পূর্ণ থেকে যায় এই তিনটে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছাড়া, জেনে নিন


দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যা তিথি মহালয়া নামে পরিচিত। এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করে। এই দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। কোথাও কোথাও পনেরো দিন ধরে দুর্গাপূজারও প্রচলন আছে। সে ক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী তিথিতে পূজা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহরের মৃন্ময়ী মন্দির এবং অনেক পরিবারে এই রীতি প্রচলিত আছে।