কিয়া ইন্ডিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের গাড়ির লাইনআপ বাড়িয়ে ১০টি মডেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে তৈরি দুটি নতুন এসইউভি বাজারে আসতে পারে।

কিয়া ভারতের গাড়ির বাজারে নিজেদের জমি আরও শক্ত করতে চাইছে। তারা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে তাদের গাড়ির লাইনআপ বাড়িয়ে ১০টি মডেলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই গাড়ি নির্মাতা সংস্থা সেই লক্ষ্যেই আরও দুটি নতুন এসইউভি আনার ছক কষছে। গাড়ি দুটি ভারতেই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রিপোর্ট বলছে, এগুলো ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাজারে চলে আসবে। কিয়া ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিইও ইনভেস্টর ডে-তে ঘোষণা করেছিল যে, ভারতে তাদের মডেল সংখ্যা ১০-এ নিয়ে যাওয়া হবে। কোম্পানির প্রধান মডেলগুলো হলো সনেট, সাইরোস, ক্যারেন্স, সেল্টোস, কার্নিভাল, ইভি৬ এবং ইভি৯। গত ৪ সেপ্টেম্বর সোরেন্টো লঞ্চ হওয়ার পর তাদের গাড়ির সংখ্যা বেড়ে ৮টি হয়েছে।

সনেট ও সেল্টোসের মাঝে নতুন এসইউভি

অটোক্যার ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন দুটি মডেলের একটি বি-সেগমেন্টের এবং অন্যটি সি-সেগমেন্টের হবে। বি-সেগমেন্টের এসইউভিটি দ্বিতীয় প্রজন্মের হুন্ডাই বেয়ন-এর প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে। প্রায় ৪.২ মিটার লম্বা এই গাড়িটি সনেট এবং সেল্টোসের মাঝামাঝি জায়গায় থাকবে। এটি কিয়ার প্রথম মডেল হতে পারে যেখানে ফ্যাক্টরি-ফিটেড সিএনজি কিট থাকবে। হুন্ডাই বেয়নের সঙ্গে মিল থাকায় এতে ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন, সিএনজি এবং হাইব্রিড ভার্সন আশা করা হচ্ছে। এই মডেলটি বাজারে মারুতি ভিক্টোরিস-এর কড়া প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে। এটি ২০২৮ সাল নাগাদ লঞ্চ হতে পারে।

সেল্টোস ও সোরেন্টোর মাঝে আরও এক মডেল

দ্বিতীয় গাড়িটি সি-সেগমেন্টের হবে। এর পজিশন সেল্টোস এবং সোরেন্টোর মাঝামাঝি থাকবে। এটিও একটি এসইউভি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই মডেলে হুন্ডাইয়ের তৈরি নতুন এমপিভি বা অফ-রোড এসইউভির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হতে পারে। হুন্ডাই ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই দুটি গাড়ির প্রজেক্ট নিশ্চিত করেছিল। নতুন এই কিয়া মডেলে একাধিক পাওয়ারট্রেন অপশন থাকতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বি-সেগমেন্টের মডেলটি বাজারে আনার সবুজ সংকেত মিলেছে, তবে সি-সেগমেন্টের মডেলটি এখনও মূল্যায়নের স্তরে রয়েছে।

২০৩০ সালে ৪.১ লক্ষ গাড়ি বিক্রির টার্গেট

কিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৪.১ লক্ষ গাড়ি বিক্রি করা এবং ভারতের বাজারে ৭.৬ শতাংশ শেয়ার দখল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এই নতুন মডেলগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা নেবে। কোম্পানি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর প্ল্যান্টে আরও একটি অ্যাসেম্বলি লাইন বসানোর কথাও ভাবছে।