লকডাউন শিথিলের পর অনেক কলকাখানা,  অফিস-আদালত, গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হবে না। এতে করে কল-কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে কাজ হারানোর ভয় ব্যপক ভয় তৈরি হয়েছে। আর সেই ভয়কে কাজে লাগিয়েই জাল 'করোনা নেটেটিভ' সার্টিফিকেট-এর ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল একদল প্রতারক। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিসের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছে এই জালিয়াতি। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের অদূরে সাভার উপজেলায়।

বাংলাদেশেও ভারতের মতো প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই দেশে এই মুহূর্তে রোগীর সংখ্যা ৬৩,০২৬ জন, এবং করোনা জনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৮৪৬ জনের। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও অর্থনীতির কথা ভেবে কিছুটা বাধ্য হয়েই লকডাউন পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা না করলেন, তার কড়াকড়িতে অনেকটাই শিথিলতা আনা হয়েছে। আর তারপরই সাধারণ মানুষের কাজ হারানোর ভয়কে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো করোনা সার্টিফিকেটের বিশাল ব্যবসা ফেঁদে বসেছিল একটি জালিয়াতি চক্র।  

সাভার মডেল থানার ওসি জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও কাজ হারানোর আতঙ্ককে পুঁজি করে বেশ কিছুদিন ধরেই সংঘবদ্ধভাবে এই জালিয়াতি ব্যবসা চলছিল। সম্প্রতি 'দেনিটেক্স' নামে একটি পোশাক তৈরির কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে এই ধরনের ভূয়ো বেশ কিছু সার্টিফিকেট জমা দেন কর্মীরা। সার্টিফিকেটের বয়ান দেখে তাদের বেশ সন্দেহ হয়।

বিষয়টি নিয়ে সংস্থার তরফে তদন্ত করা হয়। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রারে ওই সার্টিফিকেটধারীর কারোরই নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে দেনিটেক্স কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেটগুলো যে ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছে, সেখানকার এক ব্যক্তিকে ডেকে পাঠায়। অন্যদিকে খবর দেওয়া হয় পুলিশেও।

সেই ফাঁদে পা দিয়েই ধরা পড়ে যান সইদ নামে এক ব্যক্তি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে তিনি আদতে পশ্চিমবঙ্গের একটি ওষুধের দোকানের মালিক। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এই চক্রটি অনেক বড় বলেই বাংলাদেশি পুলিশের ধারণা। তাই তারা আরও গভীরে তদন্ত করছে।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ডাক্তার সায়েমুল হুদা বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের যে যন্ত্রণা, তারমধ্য়েও একদল যে সার্টিফিকেট জাল করার ব্যবসার মতো অনৈতিক কাজ করবে, তা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। তবে পুলিশ এই বিষয়ে বিশদে তদন্ত করছে। আইনানুগ ব্যবস্থায় তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সাভার মডেল থানা জানিয়েছে, সইদ ও আটক হওয়া অপর ব্যক্তিকে নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে। অভিযান শেষ হলে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।