সামনে থেকে মুখ মিষ্টি এবং পেছন থেকে ছুরি মারার কুশলতার জন্য বরাবরের  কুখ্যাতি রয়েছে প্রেসিডেন্ট  জিনপিং-এর দেশ চিনের। বহু ছোট ছোট দেশকে ঋণের জালে ফাঁসিয়ে তাঁদের সর্বশান্ত করেছে বেজিং। আন্তর্জাতিক মহলে যেভাবে চিনের প্রতি অন্যান্য দেশগুলোর সচেতনতা বেড়েছে, তাতে এবার ছোট দেশগুলো চিনের জালে আর ফাঁসতে চাইছে না।

পাকিস্তান ও নেপালে সফল হলেও বাংলাদেশকে বাগে আনতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে চিনা রাষ্ট্রপতি জিনপিংকে। ভারতের সঙ্গে যখন বেজিংয়ের তিক্ততা বাড়ছে তখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্প্রতি চিন আগ্রাসী ভাবে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে৷ বাংলাদেশের নদী প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ করছে চিন। এমনকি তিস্তা নদী প্রকল্পে বাংলাদেশকে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিতে চলেছে চিন৷  এর পরেও অবশ্য ভারত বিরোধী মনোভাব বাংলাদেশের মধ্যে ঢুকিয়েও বিশেষ সুবিধা করতে পারল না ড্রাগন।  ভারতের দিকেই ঝুঁকে রইল বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: চিন-পাকিস্তানকে ভয় ধরাতে আরও ক্ষুরধার রাফাল ও সুখোই, সংযোজিত হল বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিভিআর মিকা

চিন ঢাকার সঙ্গে যখন ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে তখন বাংলাদেশকে বন্ধুত্বের বার্তা দিতে ২ দিনের সফরে ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রীংলাকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন মোদী। ভারত যে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধু, তা ঢাকাকে স্মরণ করাতে যেন মরিয়া দিল্লি৷

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ ৯০ মিনিট বৈঠক করেন শ্রীংলা৷ সূত্রের খবর, বৈঠকে শ্রীংলাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কথা দিয়েছেন, দিল্লির স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর, এমন কোনও কাজের শরিক হবে না ঢাকা৷ ভারতকে টার্গেট করছে, এমন জঙ্গিদের বা জঙ্গি সংগঠকে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতেও দেওয়া হবে না৷ 

আরও পড়ুন: জঙ্গি ছিনিয়ে নিতে জেল ভাঙার ছক আইএসের, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর বাংলাদেশের বিদেশসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে দু’দেশের পারস্পারিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা উৎপাদনের বিষয়ে ভারতের সাথে যুক্ত হতে চাইছে বাংলাদেশ। এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে দু’দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, যৌথ পর্যালোচনা, মুজিববর্ষ, রোহিঙ্গার মতো বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুর প্রসঙ্গও তোলেন৷ ভারতকে তিনি অনুরোধ করেন, উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে নির্বিঘ্নে ফিরিয়ে দিতে দিল্লি যেন তত্‍পরতার সঙ্গে কাজ করে৷

 

 

চিন ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী দেশগুলিতে তাদের প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের পেকুয়াতে বিএনএস শেখ হাসিনা ডুবোজাহাজ ঘাঁটি তৈরি এবং বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে দু'টি ডুবোজাহাজ দেওয়া। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই রয়েছে। ঢাকা চিনকে বঙ্গোপসাগরে নৌ-পরিকল্পনা রূপায়ণে সাহায্য করেছে। এর মধ্যে দিল্লির পক্ষে আর একটি উদ্বেগের বিষয় হল যে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগকেও গ্রহণ করেছেন। এই অবস্থায় ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে গত ইদে ১০টি ব্রডগেজ রেল ইঞ্জিন বাংলাদেশকে উপহার পাঠিয়েছেন মোদী। সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারও বদল করেছে দিল্লি। এই অবস্থায় শ্রীংলার মতো একজন শীর্ষস্থানীয় আমলাকে মোজী ঢাকা পাঠানোয় খুশি হয়েছেন হাসিনাও। মোদীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোদীর প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।