একটু মেয়েলি সুরে কথা বললেই, 'তুই গে নাকি?', 'এই একদম গায়ে পড়বি না', 'কি রে, তুই হোমো?' এই ধরণের হোমোফোবিয়া কালও ছিল, আজও আছে, চিরকাল থাকবে। সহজে কারও ভিতর থেকে হোমোফোবিয়া যায় না। অবশ্যই এটা ডিপেন্ড করে আপনার মানসিকতার পর। ট্রান্সজেন্ডার এবং সমকামীরাও যে মানুষ তা আমাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই বিশ্বাস করি না। এই ৯৫ শতাংশের মধ্যে কিছু লোকজন আছে যারা এদের দেখলেই অস্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনটাই ঘটল টলিউড অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। 

আরো পড়ুনঃমামলা রুজু সলমন-করণ সহ সাতজনের বিরুদ্ধে, সুশান্তের মৃত্যুতে এঁদেরই হাত, উঠছে অভিযোগ

কলকাতার এক অভিজাত ক্লাবে তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। সুজয়ের খুব কাছের বান্ধবী রত্নাবলী রায়ের ফেসবুক পোস্ট থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি লেখেন, "রোজ বিকেলে সুজয় হাঁটতে বের হন। সাদার্ন অ্যাভিনিউ থেকে বেরিয়ে গোল চক্কর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যান বেঙ্গল রোয়িং ক্লাবের দিকে। গতকালও বেরিয়েছিলেন। তো তাঁর হিসু পায়। সেই ডাকে সাড়া দিতে সুজয় ক্লাবের দারোয়ানের অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। হাতে স্যানিটাজার, মুখে মাস্ক ও ছিল। টয়লেটে ঢুকবেন বলে ভেতরে পা রাখতেই ভেতর থেকে এক পুরুষ, সঞ্জয় মান্না বোধহয় নাম তার, বেরিয়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।"

আরও পড়ুনঃ'আমার মাত্র দু'জন বন্ধু আছে', সুশান্তের পুরোনো ক্লিপিং শেয়ার করলেন অভিনেত্রী অদিতি

চলতি ভাষায় সুজয়কে বৃহন্নলাবলে ওঠে সেই ব্যক্তি। সুজয় যথারীতি বিনীতভাবে জানান, তিনি টয়লেটে যাবেন। অনুমতি নিয়েই ঢুকেছেন। তারপর গলার স্বর কয়েক গুণ বাড়িয়ে শুরু হল অপমান করা। সীমা ছাড়ায়নি এখানেই। তাঁকে ধাক্কা মেরে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেই লিখেছেন রত্নাবলী। বৃহন্নলাদের এই ক্লাবে কোনও জায়গা নেই। সুজয় সেই ব্যক্তির এমন আচরণে বিনীতভাবেই প্রতিবাদ করেন। চরম অপমানের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনার পর সুজয় ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, "ক্লাব কর্তৃপক্ষ থেকে আমায় ফোন করে ক্ষমা চেয়েছেন তাদের এই দুর্ব‍্যাবহারের জন্য। আমি তাদের ক্ষমা করেছি বটেই কিন্তু এই ঘটনাটি ভুলবোনা সেটাও জানিয়েছি। রত্নাবলী রায় এবং বাপ্পাদিত্যর কাছে ঋণী রইলাম।ওদের কাছে মনুষ্যত্বের নতুন সংজ্ঞা শিখলাম।"