আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যত এগিয়ে আসে, ততই চাকরিজীবীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—ফর্ম ১৬ না থাকলে কি ITR দাখিল করা সম্ভব? অনেকেই মনে করেন, নিয়োগকর্তার দেওয়া এই নথি ছাড়া রিটার্ন ফাইল করার উপায় নেই। বাস্তবে কিন্তু আয়কর আইনের প্রক্রিয়া এতটা সীমাবদ্ধ নয়।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যত এগিয়ে আসে, ততই চাকরিজীবীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার সামনে আসে—ফর্ম ১৬ না থাকলে কি ITR দাখিল করা সম্ভব? অনেকেই মনে করেন, নিয়োগকর্তার দেওয়া এই নথি ছাড়া রিটার্ন ফাইল করার উপায় নেই। বাস্তবে কিন্তু আয়কর আইনের প্রক্রিয়া এতটা সীমাবদ্ধ নয়। ফর্ম ১৬ না থাকলেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি হাতে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।

প্রথমেই জানা দরকার, ফর্ম ১৬ মূলত একজন কর্মীর বার্ষিক বেতন, করযোগ্য আয় এবং উৎসে কাটা করের (TDS) একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ফলে এই নথি না থাকলে সমস্যার মূল কারণ তথ্যের অভাব, রিটার্ন ফাইল করার অযোগ্যতা নয়। আর সেই তথ্যের বেশিরভাগই অন্য নথি থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব।
অনেক সময় চাকরি পরিবর্তন, সংস্থার প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মস্থল বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা চাকরি ছাড়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে কর্মীরা সময়মতো ফর্ম ১৬ পান না। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে নিজের আর্থিক নথিগুলি গুছিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই ক্ষেত্রে মাসিক স্যালারি স্লিপ সবচেয়ে বড় সহায়তা করতে পারে। সেখান থেকে মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, বোনাস বা বিশেষ সুবিধার তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি আয়কর বিভাগের পোর্টালে থাকা ফর্ম ২৬এএস এবং অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (AIS) থেকে জানা যায় কোনও সংস্থা আপনার নামে কত কর জমা করেছে এবং আর্থিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কী কী নথিভুক্ত হয়েছে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিট থেকে পাওয়া সুদের আয় অনেক সময় করযোগ্য আয়ের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
মোট আয় নির্ধারণের পর কর সাশ্রয়ের সুযোগগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আয়কর আইনের ৮০সি ধারার অধীনে জীবনবিমা, পিপিএফ, ইএলএসএস বা অন্যান্য নির্দিষ্ট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের জন্য ৮০ডি, শিক্ষা ঋণের সুদের ক্ষেত্রে ৮০ই এবং সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের উপর ৮০টিটিএ ধারায় কর ছাড়ের সুবিধা মিলতে পারে। ফলে সঠিক তথ্য দিলে করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
এরপর ফর্ম ২৬এএস-এ প্রদর্শিত TDS-এর তথ্যের সঙ্গে নিজের হিসাব মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। যদি দেখা যায় এখনও কিছু কর বকেয়া রয়েছে, তাহলে চালান ২৮০-এর মাধ্যমে অনলাইনে সেই কর জমা দেওয়া যায়। সব তথ্য যাচাই করার পরে আয় অনুযায়ী উপযুক্ত রিটার্ন ফর্ম নির্বাচন করতে হবে। সাধারণ বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ITR-1 ব্যবহার করা হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে ITR-2 প্রযোজ্য হতে পারে।
সবশেষে ই-ফাইলিং পোর্টালে রিটার্ন জমা দিয়ে আধার OTP, নেট ব্যাঙ্কিং বা অন্য অনুমোদিত পদ্ধতিতে ই-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করলেই প্রক্রিয়া শেষ হবে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ফর্ম ১৬ থাকলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার কাজ নিঃসন্দেহে সহজ হয়। তবে এই নথি হাতে না থাকলেই যে রিটার্ন ফাইল করা যাবে না, এমন ধারণা ভুল। বরং নিজের আয়, বিনিয়োগ এবং কর সংক্রান্ত নথি নিয়মিত সংরক্ষণ করার অভ্যাস থাকলে ফর্ম ১৬ ছাড়াও নির্ভুলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। তাই ফর্ম ১৬ না পাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


