Bennett University AI and Children: বেনেট ইউনিভার্সিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং শিশুদের ওপর তার প্রভাব নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে। এই সম্মেলনে AI কীভাবে শিশুদের শিখন, আচরণ এবং মূল্যবোধকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন।
Bennett University AI and Children: সমাজ, মানবিক মূল্যবোধ এবং শাসনব্যবস্থার ওপর প্রভাব' শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণা করেছে। গ্রেটার নয়ডায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে 'টাইমস স্কুল অফ মিডিয়া' এবং 'স্কুল অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স'-এর সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
শিশুদের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাবের ওপর গুরুত্ব-
এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো কীভাবে শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত ও গঠন করছে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে শিশুদের শিখনপ্রক্রিয়া, আচরণ, নিজস্ব সত্তা এবং মূল্যবোধের ওপর প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন।
যেহেতু শিশুরা বর্তমানে ব্যক্তিগত পছন্দ মাফিক বিষয়বস্তু (personalised content) প্রদর্শনকারী প্ল্যাটফর্ম, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ইমার্সিভ মিডিয়ার (immersive media) মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক বিভিন্ন টুল ব্যবহার করছে, তাই এই সম্মেলনে এর সুফল ও ঝুঁকি—উভয় দিকই নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
আলোচনার মূল বিষয়সমূহ-
এই সম্মেলনে শিশুদের গোপনীয়তা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল পরিসরে তাদের প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হবে। এছাড়া, বিভিন্ন অ্যালগরিদম কীভাবে শিশুদের অনলাইনে দেখা ও শেখার বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে, তাও এতে বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।
প্রযুক্তি কীভাবে অভিভাবকত্ব, শিক্ষা এবং শিশুদের পারস্পরিক সামাজিক মিথস্ক্রিয়াকে বদলে দিচ্ছে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত ও বিশ্লেষণ তুলে ধরবেন।
ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা-
এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গবেষক, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—ধারণা বিনিময়ের একটি উপযুক্ত মঞ্চ তৈরি করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা।
গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান-
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মৌলিক ও অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ডিজিটাল যুগে অভিভাবকত্ব (digital parenting), ইমার্সিভ মিডিয়া, নিজস্ব সত্তা ও পরিচয়, স্বাস্থ্যসেবা, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ, প্রবেশগম্যতা (accessibility) এবং নীতিগত বিষয়সমূহ।
নির্বাচিত গবেষণাপত্রগুলো একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি গ্রন্থে স্থান পাবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ এবং অংশগ্রহণের নিয়মাবলী-
গবেষণাপত্রের সারাংশ (Abstract) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হলো ৩ মে, ২০২৬। পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র অবশ্যই ২১ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে জমা দিতে হবে। নির্বাচিত গবেষণাপত্রগুলোর তালিকা ১০ জুলাই, ২০২৬-এ ঘোষণা করা হবে। এই সম্মেলনটি বেনেট ইউনিভার্সিটির প্রাঙ্গণে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য অনলাইনে যুক্ত হওয়ার সুবিধাও থাকবে।
এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে শিশুদের ভবিষ্যৎকে রূপ দিচ্ছে, সে বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচনার সূচনা করা। এটি ডিজিটাল যুগে উদ্ভাবনের পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাকেই বিশেষভাবে তুলে ধরে।


