কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আগেভাগেই প্রিটার্ম বার্থের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের কথায়, এই উদ্যোগ শুধু একটি গবেষণা প্রকল্প নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আগেভাগেই প্রিটার্ম বার্থের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের কথায়, এই উদ্যোগ শুধু একটি গবেষণা প্রকল্প নয়, ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভারত এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সময়ের আগে জন্ম (Preterm Birth) বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি অনেক আগেই শনাক্ত করতে সক্ষম। GARBH-INi-এর মতো গবেষণার মাধ্যমে ১২,০০০ গর্ভবতী মহিলার ডেটা বিশ্লেষণ করে AI ভিত্তিক টুল তৈরি করা হচ্ছে, যা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং অকাল জন্মের জটিলতা ও ঝুঁকি হ্রাস করবে।
বিস্তারিত আলোচনা:
* GARBH-INi উদ্যোগ: ভারত সরকার ১২,০০০ গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে GARBH-INi (Interdisciplinary Group for Advanced Research on Birth Outcomes) নামক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম গবেষণা চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য AI ব্যবহার করে অকাল জন্ম বা সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত করা।
* AI-ভিত্তিক ঝুঁকির পূর্বাভাস: এই প্রকল্পে AI, মাইক্রোবায়োম মার্কার এবং জেনেটিক্স ব্যবহার করে প্রসবের সময়কাল নির্ভুলভাবে জানা এবং অকাল জন্মের ঝুঁকি আগে থেকেই বোঝা সম্ভব হচ্ছে।
* বিশাল ডেটাবেস: এই গবেষণার জন্য ১.৬ মিলিয়নেরও বেশি জৈবিক নমুনা (Biospecimens) এবং ১০ লক্ষের বেশি আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজ সংরক্ষণ করে একটি বিশাল ডিজিটাল বায়োরেপোজিটরি তৈরি করা হয়েছে।
* স্বদেশী সমাধান: এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবন, যা দেশের গর্ভবতী মহিলাদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে AI মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
* চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রভাব: এই AI প্রযুক্তি আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট বিশ্লেষণের গতি ও নির্ভুলতা বাড়াবে এবং এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা অকাল জন্ম রোধে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
* স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: এই উদ্যোগ কেবল অকাল জন্মের ঝুঁকি কমাতেই নয়, বরং প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, রোগ প্রতিরোধ এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা (Personalized Medicine) দেওয়ার ক্ষেত্রেও AI-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করছে।
এই প্রচেষ্টা ভারতের বায়ো-ইকোনমি বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এক বড় পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে উন্নত মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে।
