ভোট মানচিত্রে বরাবারই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র উত্তর কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘ দিন ধরে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের আধিপত্য থাকলেও কোনও একটি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য মেনে নেয়নি উত্তর কাঁথির ভোটাররা। ১৯৬২ আর ৬৭ পরপর দুই বছর উত্তর কাঁথিতে নিজেদের প্রভাব অক্ষুন্ন রাখতে পেরেছিল কংগ্রেস। তারপরের দুবারের নির্বাচনে এই কেন্দ্রের প্রভাব বিস্তার করেছিল প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি।  বাম জমানাতেও এই কেন্দ্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি বামেরা। ভোট বাক্সে বারবারই পরিবর্তন দেখেছে উত্তর কাঁথি। সিপিএমের মন্ত্রী চক্রধর মেইকাফকে হারিয়ে ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রটি দখল করেছিল তৃণমূল। তারপর দুবার তৃণমূলের হাতে থাকলেও প্রশ্ন উঠেছে এবছর কার হাতে থাকবে এই কেন্দ্র? 

২০১১ ও ১৬ পরপর দুবারই তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন বনশ্রী মাইতি। এলাকায় শিশির অধিকারিক ঘনিষ্ট বলেই তিনি পরিচিত। অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও দীর্ঘ দিনের। শুভেন্দু অধিকারীর দলবদলের সঙ্গে সঙ্গেই তিনিও বিজেপিতে যোগদান করেন। কিন্তু তাঁর ভাগ্যে শিঁকে ছেঁড়েনি। তবে বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে টিকিট পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ট সুনীতা সিংহ। তিনি কাঁথি পুরসভার বিদায়ী কাউন্সিলর। সূত্রের খবর শুভেন্দুর পরামর্শেই তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তরুণ জানা। আর বামেরা প্রার্থী হিসেবে বেছেছে সুতনু মাইতিকে। 

পূ্র্ব মেদিনীপুর জেলার উত্তর কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রটি দেশপ্রান ব্লক, ব্রজচৌলি , দেবেন্দ্র, কানাইদিঘি, কুমিরদা, লাউদা মরিশদা গ্রাম পঞ্চায়েত কাঁথি তিন নম্বর ব্লক ও বাথুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েত, এগরা ১, নিয়ে তৈরি হয়েছে। এটি কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। 

তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার সময়  থেকে কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ ও রামনগর তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে বরাবরই  অধিকারী পরিবারের ঘনিষ্টরাই তৃণমূলের টিকিট পেয়ে থাকেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এবারও তার অন্যথা হয়নি। শুভেন্দু দলবদল করে বিজেপি-তে যোগদেওয়ার পরই এই এলাকায় প্রকট হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন। এখন দেখার বিজেপির হয়ে এই এলেকায় কতটা করিশ্মা দেখাতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী।