গোটা দেশ লড়াই করছে মারণ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে। আর তাতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বহু খামতি থাকা সত্বেও জীবণের ঝুঁকি নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের এই অবদানের কথা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বারবার উল্লেখ করেছেন। করোনাআক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন বহু চিকিৎসক। এমনকি বৃহস্পতিবারই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ইন্দোরের এক চিকিৎসক। তবুও নিজেদের কর্তব্য থেকে সরে আসছেন না চিকিৎসকরা। এমনই একজন ভোপালের ডাঃ সচিন নায়ক। নাওয়া-খাওয়া ভুলে যিনি এখনও করোনা আক্রান্তদের সেবা করে চলেছেন। আর এসবের মাঝেই পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বাড়ি থেকে দূরে থাকছেন চিকিৎসক নায়ক।

৩৮১টি সংক্রমণ প্রবণ এলাকা চিহ্নিত মুম্বইতে, আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁতে চলল ৭০০ গণ্ডি

লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে হল ৩০ এপ্রিল, কেন্দ্রের আগেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা ওড়িশা সরকারের

করোনার ২০টি হটস্পট সিল করা হল রাজধানীতে, মাস্ক পড়া আবশ্যক করল প্রশাসন

ভোপালের জেপি হাসপাতালে এখন চিকিৎসা চলছে করোনা আক্রান্তদের। আর সেখানেই রোজ ডিউটিতে যাচ্ছেন চিকিৎসক সচিন নায়েক। সারাদিন করোনা আক্রান্তদের মাঝেই থআকছেন তিনি। তাই ছুটি হওয়ার পর আর বাড়ি ফিরছেন না নায়ক। পরিবারকে বাঁচাতে নিজের গাড়িতেই আপাতত কয়েকদিনের জন্য আস্তানা গেড়েছেন তিনি।

একজন মানুষের  সংস্পর্শ থেকে আরেক জনের শরীরে ছড়ায় মারণ করোনাভাইরাস। এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এর কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। সেকরাণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে বারবার জোড় দেওয়া হচ্ছে। কোভিড ১৯ রোগের সংক্রমণ আটকাতে তাই ২১ দিনের লকডাউন চলছে গোটা দেশে। কিন্তু এই সময় ছুটি নেই দেশের চিকিৎসকদের। উল্টে তাঁদের হাতেই এখন বিশাল দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালন করতে পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা। তবে এর মাঝে নিজের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি চিকিৎসক সচিন নায়ক। তাই স্করী এবং সন্তান যাতে এই মারণ রোগের শিকার না হন সেজন্য নিজেই বাড়ি ফিরছেন না এই তরুণ চিকিৎসক।

হাসপাতালের ডিউটি শেষে প্রতিদিন নিজের গাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন চিকিৎসক সচিন নায়ক। যেখানে রয়েছে তাঁর প্রতিদিনের ব্যবহারে লাগা সামগ্রী এবং বই। হাসপাতালের কাছেই নিজের গাড়িটিকে পার্ক করে রেখেছেন তরুণ চিকিৎসক। যাতে প্রয়োজন হলেই হাসপাতালের কাজে লাগতে পারনে। এভাবেই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই দিন কাটছে চিকিৎসক নায়কের। 

তবে পরিবারের জন্য মন কেমন তো করেই। সঙ্গে থাকতে না পারলেও আপাতত ভিডিও কলেই সেই দূরত্ব ঘোচাচ্ছেন এই তরুণ চিকিৎসক। আর বাকি সময়টা কাটিয়ে দিচ্ছেন নিজের পছন্দের বই পড়ে। 

সচিন জানিয়েছেন, ভোপালে প্রথমদিকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সময় তিনি খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। শহরে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। তাই পরিবারকে বাঁচাতে বাড়ি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণ চিকিৎসকের এই কাহিনী প্রকাশ পেতেই তা ভাইরাল হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহ্বান  নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে সচিন নায়কের কথা শেয়ার করেছেন।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ৪০৫ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৩ জনের। পরিস্থিতি সামলাতে ভোপাল, ইন্দোর এবং উজ্জ্বয়িনী সিল করে দিয়েছে প্রশাসন।