চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ ৬৫ জন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। হাসপাতাল ও লাগোয়া এলাকা জীবাণুমুক্ত না করা পর্যন্ত হাওড়া জেলা হাসপাতালে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য দপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে পর যাঁরা হাসপাতালে যান, তাঁদের সকলেই অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, যাঁরা ভর্তি ছিলেন, তাঁদের অনেক আবার পরিবার লোকেরাই ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 

আরও পড়ুন: করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যে এখনই স্কুল খোলার সম্ভাবনা নেই, বৃহস্পতিবার নবান্নে জানালেন মমতা

আইসোলেশন ওয়ার্ড নেই। সোমবার সুপার নিজেই জানিয়েছিলেন, জেলা হাসপাতালে কোনও করোনা রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে যদি কেউ হাসপাতালে আসেন, তাহলে তাঁকে পত্রপাঠ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সত্যবালা আইডি হাসপাতালে। শেষপর্যন্ত হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার নিজেই করোনায় আক্রান্ত হলেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শারীরিক অবস্থায় অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয় এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। সোয়াব টেস্টের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে।  

আরও পড়ুন: স্বরচিত গানে 'ভাইরাল', লকডাউনে নেটদুনিয়া মাতাচ্ছেন বাঁকুড়ার এই পুলিশ আধিকারিক

আরও পড়ুন: দিদির কথায় দান, রাজ্য়ের ত্রাণ তহবিলে ৫০০টাকা স্কুলছাত্রীর

জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সালকিয়ার এক মহিলা। জেনারেল ওয়ার্ডে থাকাকালীন তাঁর করোনা ধরা পড়ে। পরে তিনি মারাও যান। হাসপাতালে সূত্রে খবর, করোনা আক্রান্ত মহিলার যখন চিকিৎসা চলছিল, তখন জেনারেল ওয়ার্ড পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সুপার। সেখান থেকেই কী সংক্রমণ ছড়াল? আশঙ্কা তেমনই।  বৃহস্পতিবার  জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী নিজে হাওড়া জেলা হাসপাতালে যান। পরিবর্তিত পরিস্থিতি কীভাবে পরিষেবা চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকে হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত না করা পর্যন্ত রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে, তাঁরা ছাড়া আর কেউ সুপারের সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিশীথবরণ মণ্ডল।