প্রতিবছর এই দিনটিতে বাড়িতে আত্মীয়দের ভিড় লেগে থাকত। সন্ধ্যা হলেই বন্ধুদের নিয়ে জমিয়ে বসত আড্ডা। কাটা হত কেক। চলত ভুরিভোজও। ত্রিশটি বসন্তের শেষে করোনা ভাইরাস সব উলটপালট করে দিল। চার দেওয়ালের মধ্যে জন্মদিন পালন না করে ভবঘুরেদের একবেলা খাইয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন রামপুরহাটের এক যুবক।

আরও পড়ুন: আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে পালানোর চেষ্টা রোগীর, আতঙ্ক ছড়াল রায়গঞ্জে

অর্পণ নাগ। পেশায় গৃহশিক্ষক। বাবা রামপুরহাট মহকুমা শাসকের অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। মা অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী। দাদা একটি বীমা সংস্থার এজেন্ট। প্রতিবছরই দুই ছেলের জন্মদিনই ধুমধাম করেই পালন করেন পরিবারের লোকেরা। শনিবার ছিল ছোট ছেলে অর্পণের ৩০ তম জন্মদিন। ফেলে আসা বছর গুলির মতো এবারও ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করার কথা ছিল। কিন্তু বাদ সাধল করোনা ভাইরাস।  লকডাউনে জেরে অনুষ্ঠান তো করা যাবে না। ভবঘুরদের খাইয়ে জন্মদিন পালন করলেন অপর্ণ। তিনি বলেন, “বাড়িতে অনুষ্ঠান করলে একটা খরচ তো হতই। কিন্তু দেশের এই যুদ্ধে মানুষ যখন দুমুঠো খাবারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেই সময় আমার জন্মদিন পালন করা বিলাসিতা হত। তাই ঠিক করলাম ভবঘুরেদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে পারলে সেটাই পরমপ্রাপ্তি হবে।' জন্মদিনে ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে খুশি অপর্ণের পরিবারে লোকেরাও। মা সন্ধ্যা নাগ বলেন,  'ছেলে প্রথম আমাকে ভবঘুরেদের খাওয়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। এখানে খাইয়ে যা তৃপ্তি পেলাম, বাড়িতে অনুষ্ঠান করে সেই তৃপ্তি পেতাম না।'

আরও পড়ুন: নিজামুদ্দিন থেকে ফিরে মসজিদে 'আত্মগোপন', পুলিশি অভিযানে খোঁজ মিলল ১২ জনের

আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় পীত-বমি করতে করতে বালকের মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ অনাহার

উল্লেখ্যে,  লকডাউনের বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে রামপুরহাট শহরের ভবঘুরদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাই। মহৎ এই কর্মযজ্ঞে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী-সহ আরও অনেকেই। সবরকমভাবে সাহায্য করছেন খোদ এসপিডিও সৌম্যজিৎ বড়ুয়াও। তিনি নিজে খাবার পরিবেশনও করেছেন।