পরিস্থিতি কবে যে স্বাভাবিক হবে! যতদিন যাচ্ছে, করোনা আতঙ্ক যেন ততই বাড়ছে! সংক্রমণের ভয়ে এবার লরিতেই সংসার পাতলেন এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির গোঘাটে। 

আরও পড়ুন: মেয়ে মারা গিয়েছে বিহারে, বাংলায় লকডাউনে আটকে দিনমজুর মা

হুগলির গোঘাটের তুষার মালিক। পেশায় তিনি লরি চালক। কাজের সুবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকী ভিন রাজ্যেও যেতে হয় তুষারকে। কিন্তু লকডাউনের জেরে এখন কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে। জানা গিয়েছে, যেদিন দেশজুড়ে লকডাউন জারি হয়, সেদিনই গ্রামে ফেরেন ওই লরি চালক। তিনি নিজে বিয়ে করেননি, বৃদ্ধা মা ও দাদার সংসারে থাকেন। তাঁদের তো বটেই, অসাবধানতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারাও তো বিপদে পড়তে পারেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশমতো করোনা সংক্রমণ আটকাতে কোয়ারেন্টাইনে চলে গিয়েছেন তুষার। তবে বাড়িতে নয়, তিনি থাকছেন লরিতে। শুধু তাই নয়, লরিটিকে আবার দাঁড় করিয়ে রেখেছেন গ্রামের বাইরে, রাস্তায়। নিজেই রান্না করে খাচ্ছেন, আর অবসরে সঙ্গী বলতে এফএম রেডিও।  লকডাউন উপেক্ষা করে যখন দিব্যি রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকেই, তখন লরি চালক তুষার মালিকের স্বেচ্ছা নির্বাসনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই। গোঘাটের বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, 'তুষারবাবু একজন রোল মডেল। তাঁর কৃচ্ছসাধন শিক্ষণীয়।'

আরও পড়ুন: ২২ হাজার টাকায় বন্ধক রেশন কার্ড, লকডাউনে তাই রেশনহীন পুরুলিয়ার কালিন্দীদের গ্রাম

আরও পড়ুন: করোনার মাঝেই কম্পন আতঙ্ক, জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা

মাস দেড়েক আগে নদিয়ার ধানতলা থেকে ব্যবসার কাজে ওড়িশার সুন্দরগড়ে গিয়েছিলেন তিনজন। লকডাউনের মাঝে সাইকেল চালিয়ে গ্রামে ফেরেন তাঁরা। তবে বাড়িতে ঢোকেননি, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় জঙ্গলে আশ্রয় নেন সকলেই। সচেতনতার নজির দেখা গিয়েছে পুরুলিয়াতেও। স্থানীয় বলরামপুর ব্লকের ভাঙিডী গ্রাম থেকে চেন্নাইয়ে কাজ করতে গিয়েছিলেন সাতজন যুবক। গ্রামে ফেরার পর গাছে মাচা বেঁধে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেন গ্রামবাসীরাই।  শেষপর্যন্ত গাছ থেকে নামিয়ে ওই সাতজনকে স্থানীয় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করে প্রশাসন।