গোঁসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠিন সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাদ্দের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। বর্তমানে গোটা বিশ্বেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারীর আকার নিয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এই অবস্থায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে এখনও মুখে কুপুল এঁটেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। 
 
চিনের বিদেশ মন্ত্রী জানিয়েছেন, গোটা বিশ্বেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় মার্কিন অর্থ সাহায্য বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে যাবে। তার কারণে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অনেকটাই কমে যাবে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আরও একবার চিন্তা করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। 

মার্কিন যুক্তরাষ্টেরের কাছ থেকেই এতদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবথেকে বেশি আর্থিক অনুদান পেত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েব সাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আর্থিক অনুদানের প্রায় ১৪.৬৭ শতাংশই দেয় মার্কিন সরকার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিল গেটস। আর্থিক অনুদানের ৯.৭৬ শতাংশ আসে বিল গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করার বিল গেটস সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত খুবই অস্বস্তিকর। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই আরও কঠিন হয়ে যাবে বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন। জেনিভার একটি সংস্থার জিএভিআই এর পক্ষ থেকে ৮.৩৯ শতাংশ টাকা দেওয়া হত। এটিও পরিচালনা করেন বিল ও তাঁর স্ত্রী। 
 
ব্রিটেনের অনুদানের ৭.৭৯ আর জার্মানির অনুদান ৫.৬৮ শতাংশ বহন করে। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট অনুদানের মাত্র ০.২১ শতাংশ আসে চিন থেকে। চিনের থেকেও বেশি অনুদান দেয় ভারত  ও পাকিস্তান। ভারতের আর্থিক অনুদানের পরিমান প্রায় ০.৪৮ শতাংশ আর পাকিস্তানের ০.৩৬ শতাংশ। বেশ কিছুটা পিছনে রয়েছে ফ্রান্স। সূত্র অনুযায়ী হুএর বাজেটের একটা বড় অংশের খরচ যোগায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

আরও পড়ুনঃ লকডাউনের মরশুমে স্বস্তিতে প্রকৃতি, এবার উত্তরাখণ্ডের জঙ্গলে দেখা মিলল বিরল প্রজাতির তুষার চিতা
আরও পড়ুনঃ 'চলো ঘর কি ওর' সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রচারের কারণেই মুম্বইতে অভিবাসী শ্রমিকদের হুড়োহুড়ি, গ্রেফতার অভ...
আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে বাঁচাতে গিয়ে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য কর্মীরা, চরম বর্বরতার ছবি মোরাদাবাদে
তাহলে মার্কিন সাহায্য বন্ধ হয়ে গেলে কিছুটা হলেও সংস্যায় পড়বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ আর্থিক সাহায্য পাওয়ার জন্য চারটি মাত্র পথ রয়েছে হু-র হাতে। স্বেচ্ছাসেবীদের অনুদান। বর্তামানে যা মোট অনুদানের প্রায় ৮০ শতাংশ। সদস্য দেশ গুলিতে প্রায় ১৯৪টি স্বেচ্ছা সেবী সংস্থার মাধ্যমে অর্থ সংস্থান করতে পারে। 

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ করতে হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার সদস্য দেশগুলির কাছ থেকে ফি হিসেবে আর্থিক অনুদান নেয়।  এই ফি সংশ্লিষ্ট দেশটির জনসংখ্যা, আর্থনৈতিক , জনস্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ ফি থেকে জোগাড় হয় প্রায় এক শতাংশ আর্থিক অনুদান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ ফি থেকে আসে মাত্র ১ শতাংশ।