কয়েকদিন আগে চিনের একটি খবর বিশ্বে চাঞ্চল্য ফেলেছিল। জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন চলতে থাকায় মানুষকে থাকতে হচ্ছিল গৃহবন্দি। আত তাই ডিভোর্সের পরিমাণ নাকি বেড়ে গিয়েছিল কয়েকগুণ। তবে উহানের সাম্প্রতিক ঘটনা কিন্তু এই পরিসংখ্যানের একেবারে বীপরিতে হাঁটছে। সেখানে লকডাউন উঠতেই রীতিমত পড়ে গিয়েছে বিয়ের ধুম।

করোনা  সংক্রমণের উৎসস্থল বলে চিনের উহান শহরকে মনে করছেন অনেকেই। করোনা সংক্রমণ ছড়াতেই গত জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ থেকে লকডাউন করে রাখা হয়েছিল গোটা শহরটিকে। উহান পুরো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই  টানা ৭৬দিন পর গত বুধবার লকডাউন উঠেছে শহর থেকে। এখনও এই শহরে কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও মানুষ ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। আর তারপরেই এখানে বিয়ের জন্য আবেদন কয়েকশ গুণ বেড়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

চিনের ম্যারেজ অ্যাপ্লিকেশন অ্যাপ অলিপে জানাচ্ছে, মাত্র একদিনে সেখানে ৩০০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সংস্থাটির কথায় উহানে বিয়ের আবেদন প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। বিয়ের আবেদন প্রায় ৩০০ গুণ বেড়ে গেছে।

ভারত থেকে ৫ টন ওষুধ গেল ইজরায়েলে, ট্রাম্পের পর মোদী বন্দনাতে মশগুল নেতানিয়াহুও

দেশে গত ১২ ঘণ্টায় ৩০টি মৃত্যু, উত্তর-পূর্বেও এবার প্রাণ কাড়ল করোনা

আমেরিকায় রক্ষে পাচ্ছেন না বসবাসরত ভারতীয়রাও, দেশটিতে মৃত্যু মিছিল ৬০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

এত আবেদন একসঙ্গে জমা পড়ায় অ্যাপটি ক্র্যাশ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তাই সাময়িক ভাবে এটি ফ্রিজ হয়ে যায়। তবে  অ্যাপয়েন্ট সিস্টেম অকেজো হয়ে যায়নি, কেবল একটু ধীরগতির হয়ে গেছে। সমস্যা হলে  কয়েকবার রিফ্রেশ করলেই ফের আবেদন করা যাবে বলে জানান হয়েছে ম্যারেজ অ্যাপটির পক্ষ থেকে। 

করোনাভাইরাস মহামারির উৎসস্থল উহানে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিয়ের আবেদন নেওয়া বন্ধ ছিল। এই এসময় করোনাভাইরাস মহামারির বিস্তার রোধ করতে পুরো শহরকে অচল করে দেওয়া হয়েছিল।

এতদিন শহরজুড়ে লকডাউন থাকায় কেউ বিয়ে করতে পারছিলেন না। লকডাউন প্রত্যাহারের পর পরই অনেকে তাই শুভ কাজটি সেরে ফেলতে শুরু চাইছেন। ফলে বিয়ের ধুম পড়েছে শহরটিতে। অবরুদ্ধ দশা কাটিয়ে ওঠার পর যেসব জুটি প্রাণে বেঁচে গেছেন তাই তারা আর দেরি করতে চাইছেন না। 'নতুন জীবন' পাওয়াকে উদযাপন করছেন বিয়ের পিঁড়িতে বসে। তবে বিয়ে করার আগে  নতুন জুটিদের ক্লিন হেলথ কোড থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এটা প্রমাণ হবে যে তারা করোনায় আক্রান্ত নন।

এদিকে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর থেকে উহান শহর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। চালু করা হয়েছে গণপরিবহন। হেলথ অ্যাপে সবুজ সংকেত পাওয়া সুস্থ বাসিন্দা ও পর্যটকরা এখন শহরটিতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছেন। চাইলে শহর ছেড়ে অন্য কোনো স্থানেও যেতে পারছেন। প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে চলা লকডাউনে শহরটিতে অবরুদ্ধ থাকেন ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা। এ সময় পুরো শহর পরিণত হয় এক ভূতুড়ে নগরীতে।