বিশ্বকাপ ২০১৯-এ তাদের শেষ ম্যাচে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য পাকিস্তনের সামনে লক্ষ্যটা ছিল প্রায় অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টে ওঠার মতো কঠিন। ম্যাচের আগে সরফরাজ আহমেদ বলেছিলেন তাঁরা ৪০০-৫০০ রান করতে চান। এদিন তাদের গোড়াপত্তনকারি ব্য়াটসম্য়ান ইমাম উল-হক (১০০) ও তিন নম্বরে নামা বাবর আজম (৯৬) দুর্দান্ত ব্যাট করলেন। আর তাদের ১৫৭ রানের জুটিতে ৫০০ রান না হলেও ৪০০ রান তোলার আশা জেগেছিল। কিন্তু মুস্তাফিজ (৪৫-৫)-এর দাপটে শেষ দিকে রানের গতি বাড়াতে না পারার কারণে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান তুলেই থামল তাদের ইনিংস। অঙ্কের হিসেব বলছে পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে অলআউট করতে হবে ৭ রানে।

এদিন লর্ডস-এ টসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টসে জিতে বাংলাদেশ প্রথমে ব্য়াট নিলেই পাকিস্তানের সেমিফাইনালে ওঠার সব আশা শেষ হয়ে যেতে পারত। তবে টসের সময় ভাগ্য পাকিস্তানকে সহায়তা করেছে। তারপর তারা চমৎকার করতে পারে কিনা সেই দিকেই সকলের চোখ ছিল। শুরুতেই ফখর জামান (১৩)-কে ফিরিয়ে দিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন সইফুদ্দিন। এরপর কিন্তু পাকিস্তান ইনিংসকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যান ইমাম ও বাবর।

ইমামের দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে প্রাক্তন পাক ক্রিকেটাররা অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ইনজামাম-এর ভাতুষ্পুত্র হওয়ার কারণেই সুযোগ পাচ্ছেন এইরকম অপবাদও দেওয়া হয়েছে। এদিন কিন্তু তিনি একটা দিক ধরে রেখে খেলে ভাল শতরান করলেন। মাত্র ৭টি চার মেরেছেন গোটা ইনিংসে। অপর প্রান্তে বাবর আজম আরও একবার দেখালেন তিনি বিরাট কোহলি, কেইন উইলিয়ামসনদের স্তরে পৌঁছবেন বলে কেন ধরা হচ্ছে। তাঁরও শতরান পাওয়া বাধা ছিল। কিন্তু সেই সইফুদ্দিনের বলেই ৪ রান আগে ফিরে যান তিনি।

আরও পড়ুন - ধোনিকে নকলের চেষ্টা, ফের হাসির খোরাক হলেন সরফরাজ - দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন - হার্দিককে সেরা বানাতে চান - ভারতে কি কাজ খুঁজছেন প্রাক্তন পাক অলরাউন্ডার

আরও পড়ুন - দুর্বার গতিতে এগোচ্ছেন বাবর, রেকর্ড বলছে রান করছেন 'আদর্শ' কোহলির থেকেও দ্রুত

তাদের দাপটে ৩২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানে পৌঁছে গিয়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে ৪০০-এর কাছাকাছি রানটা নিয়ে যাওয়াই যেত। কিন্তু পাকিস্তান ব্য়াটসম্যানদের মধ্যে কোনও রকম ইচ্ছাই দেখা গেল না। সাংবাদিক সমন্মেলনে পাক অধিনায়ক ৫০০ রান তোলার কথা বলার পাশাপাশি বাস্তববাদী হওয়ার কথাও বলেছিলেন। কার্যক্ষেত্রে মনে হল, পরের কথাটিই বিশ্বাস থেকে বলেছিলেন। সেমিতে যাওয়া নয়, বাংলাদেশকে হারানোটাই তাদের লক্ষ্য বলে মনে হল।

৪২তম ওভারে ইমাম শতরান করার পর রানেরগতি বাড়াতে যেতেই পর পর উইকেট পড়ল পাকিস্তানের। আর একেবারে জায়গায় পড়তে শুরু করল মুস্তাফিজের কাটারগুলিও। ভারত ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ৫ উইকেট নিলেন ফিজ। এইসময় পাকিস্তান সেমি-তে যাওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে না বুঝে বোধহয় ভাগ্যদেবীও কিছুটা অপ্রসন্ন হয়েছিলেন। হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য় হন সরফরাজ। একেবারে শেষে ফের ব্যাট হাতে নামলেও তখন আর তাঁর কিছু করার ছিল না।