দ্বিতীয় ম্যাচেই পাল্টে গেল পাকিস্তান জঘন্য হার দিয়ে শুরু করেছিল বিশ্বকাপ পরের ম্যাচেই কাপ জেতার প্রধান দাবিদারকে হারাল তারা কাজে এল না দুই ইংরেজ ব্যাটসম্যানের শতরান 

ম্যাচের শুরুতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পর পর ১১টি ম্য়াচে হেরেছেন তাঁরা। মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল টেন্টব্রিজে এর আগে তাঁদের বিরুদ্ধে ৪২৪ রান তুলেছিলেন ইংরেজ ব্য়াটসম্যানরা। মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল আগের ম্যাচেই ১০৫ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল তারা। এইসব নেতিবাচক বিষয় মাথা থেকে সরিয়ে স্রেফ নিজেদের উপর বিশ্বাস রেখেই ফের সেই অনিশ্চয়তার স্ট্যাম্পেই মান্যতা দিলে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৮ রান তুলে, তারপর ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্য়াটসম্য়ানদের ৩৩৪/৯ রানেই আটকে দিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্য়াচেই দারুণভাবে ফিরে এসে ১৪ রানে জয় তুলে নিল তারা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred


রান তাড়া করা বিষয়ে বর্তমান ইংরেজ দলের বিশেষ সুনাম রয়েছে। এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই সপ্তাহ খানেক আগে পর পর চার ম্য়াচে তাঁরা ৩৫০-এর বেশি বা তার সামান্য় কম তুলে জিতেছিল। তাই প্রথমে খুব ভাল ব্যাট করে ৩৪৮ রান তোলার পরও নিশ্চিন্ত হতে পারেননি পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। ইংল্যান্ড কিন্তু রান তাড়াটা মোটেই খারাপ করেনি।

এইবারের বিশ্বকাপের প্রথম শতরান করে যান তিন নম্বরে নামা জো রুট (১০৭)। ছয় নম্বরে নেমে শতরান করলেন জয় বাটলার (১০৩)-ও। কিন্তু তাঁদের জোড়া শতরান কাজে এল না। কারণ একমাত্র রুট ও বাটলারের ১৩০ রানের জুটি ছাড়া একটিও লম্বা জুটি গড়তে পারেনি ইংল্য়ান্ড। যখনই কোনও বড় রানের জুটির সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানি বোলাররা উইকেট তুলে নিয়েছেন।

এর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজে পাকিস্তানি ব্য়াটসম্যানরা প্রতি ম্য়াচেই ভালো খেললেও ডুবিয়েছিলেন তাদের বোলাররা। কিন্তু সেই বোলিং লাইনআপের থেকে বর্তমান দলের বোলিং লাইনআপ অনকটাই আলাদা। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে না থাকলেও পরে দলে সুযোগ দেওয়া হয় মহম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজকে। এদিন তাঁরা দুজনে মিলে ৫টি উইকেট নিলেন।

তবে পাকিস্তান বোলিং-এ আসল তফাতটা গড়ে দিয়ে গেলেন তাঁদের পঞ্চম বোলার। হাফিজ ৭ ওবার বল করে ৪৩ রান দিয়ে নিলেন ইয়ন মর্গান (৯)-এর উইকেট আর ভারতের জামাই ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১০ রান দিয়ে ফিরিয়ে দেন আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানাধিকারী বেন স্টোকস (১৩)-কে।

ইংল্যান্ড যেখানে একটির বেশি জুটি গড়তে পারেনি সেখানে পাকিস্তান ইনিংস-এ তিনটি বড় জুটি হয়েছিল। প্রথমে ইমাম উল হক (৪৪)-এর সঙ্গে অপর ওপেনার ফখর জামান (৩৬), ৮৩ রানের একটি জুটি গড়েন। তাঁরা বিদায় নিলে পর আবার বাবর আজম (৬৩) ও মহম্মদ হাফিজ (৮৪) -এর মধ্যে একটি ৮৮ রানের জুটি হয়। আর তারপর হাফিজের সঙ্গে অধিনায়ক সরফরাজ (৫৫) আরও একটি ৮০ রানের জুটি গড়েন। এই তিনটি বড় জুটিই পাকিস্তানকে রানের পাহাড়ে তুলে দেয়।

তবে একই সঙ্গে বলতে হবে ইংল্যান্ড বোলার ও ফিল্ডারদের ব্যর্থতার কথাও। ব্যাটিং সহায়ক পিচে একজন ইংরেজ বোলাররা সঠিক জায়গায় বল রাখতে পারেননি। কিছুটা মুখ রক্ষা করেছেন জোরে বোলার মার্ক উড এবং স্পিনার মইন আলি। কিন্তু বোলিং-এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফিল্ডিং-ও ডুবিয়েছে বিশ্বকাপ জেতার প্রধান দাবিদারদের। আগের দিনের বেন স্টোকস-এর মতো এদিনও একটি দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন ক্রিস ওকস। ম্য়াচে চারটি ক্যাচ নিয়ে রেকর্ডও করেছেন তিনি। কিন্তু সেই সঙ্গে একেবারে লোপ্পা ক্যাচ ছেড়েছেন জো রুট। ক্যাচ পড়েছে আরও বেশ কয়েকটি। মিস ফিল্ড হয়েছে। ওভার থ্রো-তে চার হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই একদিনের ক্রিকেটের এক নম্বর দল তথা বিশ্বকাপ জেতার প্রধান দাবিদারদের বেশ কিছু দুর্বলতা ধরা পড়ল। বাকি দলগুলি যা টুর্নামেন্টের বাকি অংশে কাজে লাগাতে চাইবে। আর পাকিস্তান প্রমাণ করে দিল, ক্রিকেট যদি মহা অনিশ্চয়তার খেলা হয়, তাহলে তাঁরাই খেলাটার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। কোনওদিন ১০৫-এ অলআউট হয়ে যায়, আবার তার পরের ম্যাচেই ৩৪৮ রান তুলে জয় তুলে নেয়। ১১ ম্যাচ হারের পর জয়ের সরণিতে তারা ফিরল কিন্তু একেবারে সবচেয়ে বড় দলটিকে হারিয়েই। এরপর পাকিস্তানকে গুরুত্ব না দিলে কিন্তু বাকি দলগুলিকে ভুগতে হবে।