অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শারজায় সচিনের সেই অবিস্মরণীয় শতরানের ২২ বছর পূর্ণ হল আজ।   কোকাকোলা কাপের মরন বাচন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সচিনের সেই বিধ্বংসী ইনিংসকে ক্রিকেট সমর্থকেরা মরুঝড় নামে বেশি চেনে। ৯০-এর দশকে সচিন তেন্ডুলকরের ব্যাটিং যে কতটা ভয়ঙ্কর ছিল, তা এই একটা ইনিংসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 

আরও পড়ুনঃলকডাউনে ঘরে বসেই স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি বা ফিটনেস চর্চা, সাহায্য করতে পারে ৭ মাস বয়সী এই স্টার্টআপ

সালটা ছিল ১৯৯৮। শারজায় আয়োজিত ওই সিরিজ়ের ষষ্ঠ ম্যাচ ছিল সেটা। অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড এবং ভারতকে আয়োজিত ওই প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার ফাইনাল দেখা নিশ্চিত হয়ে গেছিল। শেষ ম্যাচ বাকি থাকা অবস্থায় ভারতের প্রাপ্ত পয়েন্ট, নিউজিল্যান্ডের পয়েন্টের সমান ছিল। ফাইনালের টিকিট কনফার্ম করতে মরিয়া ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। জয় পেলে ফাইনাল নিশ্চিত। কিন্তু ম্যাচ হারলে রান রেটের বিচারে মেন-ইন-ব্লু অথবা কিউয়িদের মধ্যে সেরা দল ফাইনালের ছাড়পত্র পাবে। এমন অবস্থায় নির্ধারিত ৫০ ওভারে ভারতকে ২৮৫ রানের একটা বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরে ম্যাচে বিঘ্ন ঘটায় সেই লক্ষ্যমাত্রা কমে দাঁড়ায় ২৭৬ রান। ওভার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৬। ফাইনাল যেতে হতে ম্যাচ না জিতলেও অন্তত ২৩৭ রানের প্রয়োজন ছিল। 

আরও পড়ুনঃটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অদল বদলের প্রস্তাব সুনীল গাভাসকরের, ঠিক কী বললেন সানি

গ্রুপের আগের ম্যাচেও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাস্ত হয়েছিল ভারত। আর এই ম্যাচেও সবাই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছিলেন ভারতই হয়ত আবার হারবে। শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি ভারতের। ফ্লেমিং এবং টম মুডির বোলিং সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়ে যায় ভারত। নিজের প্রান্ত সামলে রেখে ব্যাটিং করতে থাকেন সচিন। প্রতি ওভারে রানরেট ক্রমশ বাড়ছিল। শুরুর দিকে সচিনও কিছুটা ভাগ্যবান ছিলেন। তাঁর একটি খোঁচা দেওয়া শট তিনজন ফিল্ডারের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই শটের পরেই সচিনের ভোল একেবারে বদলে যায়। এরপর একের পর এক বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারিতে সচিনের ইনিংস বুলেট ট্রেনের গতিতে এগোতে থাকে। ব্যাটে-বলে নিখুঁত টাচ এবং টাইমিং। শটগুলি আজও অনেক ক্রিকেটভক্তর মনে স্মরণীয় হয়ে আছে। এরমধ্যে একটা শট হল, মিড উইকেটের উপর দিয়ে মাইকেল ক্যাসপ্রোউইচকে বিশাল ওভার বাউন্ডারি। তার পরের শটটিই গিয়ে পড়ে সাইট স্ক্রিনের একেবারে মাথায়। এরপর মার্ক ওয়া এবং শেন ওয়ার্নকে প্যাডল সুইপ করে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান মাস্টার ব্লাস্টার। কখনও বা লং অনের উপর দিয়ে সোজা বাউন্ডারির বাইরে। তবে ওয়ার্ন নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, যখন ওই রাতে তাঁর হাত থেকে বেরনো সেরা ডেলিভারিতে সপাটে কভার ড্রাইভ করেন সচিন। 

আরও পড়ুনঃআর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে ভারতের বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়া

সচিনের এমন ব্যাটিং দেখার পর ধুঁকতে থাকা ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের জয়ের প্রতি প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে শুরু হল ধুলোর ঝড়। দুই দলের ক্রিকেটারই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়। বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। সৌভাগ্যক্রমে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারও শুরু হয় ম্যাচ, সঙ্গে সচিনও। তার তখন ছিল একটিই লক্ষ্য, কোনওক্রমে ভারতকে ফাইনালে তোলা। সচিন ছিলেন একেবারে ধ্বংসাত্মক মেজাজে। অস্ট্রেলিয়া বোলারদের তুলধোনা করে ভারতের ফাইনাল নিশ্চিত করেন তিনি। জয়ের আশাও করছিলেন অনেকে। এমন দিনে সবকিছুই বোধহয় সম্ভব ছিল। কিন্তু না, এই ম্যাচে ভারত জিততে পারেনি। পুল শট মারতে গিয়ে উইকেট রক্ষকের হাতে সোজা ক্যাচ চলে যায়। ওই ম্যাচে ১৩১ বলে ১৪৩ রান করেন সচিন। যখন তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরছিলেন, তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিত সকলেই তাঁকে করতালি দিয়ে কুর্ণিশ জানান। গোটা ইনিংসে তিনি নয়টি বাউন্ডারি এবং পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি মারেন। সচিন তাঁর ফর্মের একেবারে শীর্ষে ছিলেন ওই ম্যাচে। প্রত্যেকটা প্লেসমেন্ট অসাধারণ ছিল। আর শট নির্বাচনও ছিল দেখার মতো। ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতে মার্ক ওয়য়ের উইকেটটিও নিয়েছিলেন সচিন, সাথে তার দাদা স্টিভ ওয়কে রানআউটও করেছিলেন তিনি। 

হ্যাঁ, ওই ম্যাচটা অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল। কিন্তু, এই ক্ষত থেকে বেরিয়ে আসতে অজ়ি ক্রিকেটারদের অনেকটাই সময় লেগেছিল। কারণ ওই সেঞ্চুরির দৌলতেই ফাইনালে পৌঁছেছিল ভারত। আর ফাইনালেও মূলত সচিনের সেঞ্চুরির দৌলতেই অজিদেরকে হারিয়ে কোকাকোলা কাপ জিতেছিল ভারত।