ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট মানেই একসময় ছিল স্লেজিংয়ের বন্যা। তা তা ৮৫-র বেনসন অ্যান্ড হেজেস ট্রফি হোক, কিংবা ১৯৯৬-এর শারজা কাপ অথবা ২০০১-০২ ও ২০০৩-০৪-এর ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। এছাড়া প্রত্যেক বিশ্বকাপে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সাক্ষাৎ মানেই যুদ্ধের থেকে কম কিছু নয়। প্রায় সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল দু দলের ক্রিকেটারদের। বিশ্ব ক্রিকেট উপভোগও করত এই দুই দেশের লড়াই। অনেক ঝামেলা তো গড়িয়েছে মাঠের বাইরেও। কিন্তু বর্তমানে ভারত-অস্ট্রেলিয়া খেলায় সেই আগ্রাসন ও স্লেজিংয়ের ফুলঝুড়ি দেখা যায় না। লড়াইয়ের ঝাঁঝও কমেছে অনেকাংশে। যার কারণ হিসেবে এবার আইপিএলকেই দায়ী করলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। আইপিএলে খেলার জন্যই এখন সুর নরম করে ফেলছেন ব্যাগি গ্রিণ-এর বর্তমান সৈনিকরা।

আরও পড়ুনঃমেসির ব্যক্তিগত জীবনের কিছু মূহুর্ত, যা বরাবর ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

অতীতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া বহু স্মরণীয় ক্রিকেট যুদ্ধের জন্ম দিয়েছে। স্লেজিং, পাল্টা স্লেজিং চলেছে সেই সব ম্যাচে।  ক্লার্কের দাবি, বর্তমানে আইপিএল খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা এতটাই মুখিয়ে থাকেন যে তাঁরা বিরাট কোহালি এবং তাঁর সতীর্থদের স্লেজিং পর্যন্ত করেন না। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বজয়ী অধিনায়কের দাবি, “সকলেই জানে ক্রিকেটের আর্থিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভারত কতটা শক্তিশালী। সেটা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই হোক, আর ঘরোয়া স্তরেই হোক। আমার মনে হয়, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের সবকটি দেশের ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়েছে। ভারতকে তাঁরা সমঝে চলছে। কেউ কোহলি বা অন্য ভারতীয় ক্রিকেটারদের স্লেজিং করতে সাহস করছে না। কারণ সবাই জানে এপ্রিল মাসে ওই ভারতীয়দের সঙ্গেই খেলতে হবে।” 

আরও পড়ুনঃছোট ছোট গ্রূপে অনুশীলন শুরুর সিদ্ধান্ত বায়ার্নের

আরও পড়ুনঃলকডাউনের ফলে পাওয়া সময়ে অ্যাথলিটদের নিজেদের দক্ষতাতে সান দিয়ে রাখতে বললেন মাইকেল ফেল্পস

ক্লার্ক আরও বলছেন, ভারতের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন তারকা আইপিএলের দলগুলির অধিনায়ক। তাই, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা ওদের স্লেজিং করেন না। তিনি বলছেন,”আপনি যে কোনও দশজন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারকে দেখুন। আইপিএলে ওদের জন্য প্রচুর টাকা নিলাম হয়। ওঁরা ভাবে আমি কোহলিকে স্লেজিং করব না। তাহলে আমাকে ব্যাঙ্গালোর দলে নিয়ে নেবে। মাত্র ৬ সপ্তাহে আমার ১ লক্ষ মার্কিন ডলার রোজগার হবে।” ক্লার্কের মতে, ঠিক এই কারণেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা তাঁদের আগ্রাসী মনোভাব হারিয়ে ফেলছেন। তাঁদের জয়ের জেদটাও কমে যাচ্ছে। মাইকেল ক্লার্কের এই বক্তব্যের পরই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। যদিও এই বিষয়ে অসি ক্রিকেটাররা এখনও কোনও বক্তব্য পেশ করেননি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ সমর্থনও করেছে ক্লার্কের বক্তব্যকে।