পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যাডিলেড টেস্ট দ্বিতীয় দিন। কেরিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ডেভিড তখন যে বিক্রমে ব্যাটিং করছেন সেটা দেখে অনেক ক্রিকেট পন্ডিতেরই মনে হয়েছিল লারার ৪০০ রানের ইতিহাসটা আর সুরক্ষিত নয়। ওয়ার্নার নতুন ইতিহাস লেখার পথে এগিয়ে চলেছেন। দুই প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ডন ব্র্যাডম্যান ও মার্ক টেলারকেউ টপকে গেলেন ওয়ার্নার। ৩৩৫ অপরাজিত। আর তখনই অজি ড্রেসিংরুম থেকে অধিনায়ক পাইনের সংকেত এল ড্রেসিং রুমে ফিরে যাওয়ার। দল ৫৮৯ রান করার পর ইনিংস ডিক্লেয়ার করার সিদ্ধান্ত নিলেন অজি অধিনায়ক। এই সিদ্ধান্তটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এত কাছে এসেও লারার ৪০০ রানের রেকর্ডটা ভাঙার সুযোগ পাবেন না ওয়ার্নার? এই প্রশ্ন উত্তাল হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। অধিনায়ক পাইনের সমালোচনা করতেও হয়েছে তুমুল ভাবে। 

আরও পড়ুন - টি-২০ ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন নেপালের গৃহবধূ

এবার সেই সমালোচকদের তালিকায় নাম লেখালেন স্বয়ং ব্রায়ান চার্লস লারা। ওয়ার্নায় যখন দাপুটে ব্যাটিং করছেন তখন অ্যাডিলেডেই ছিলেন ব্রায়ান লারা। একটি বিজ্ঞাপনের কাছে অস্ট্রেলিয়াতে ছিলেন ক্রিকেটের রাজপুত্র। ওয়ার্নারের এমন ব্যাটিংয়ের কথা শুনে তিনিও আর চুপ করে থাকতে পারেননি। টিভইর পর্দায় খেলার দেখা সম্ভব না হলেও রেডিওতে কমেন্ট্রি চালিয়ে রেখেছিলেন। মনে মনে ঠিকও করে ফেলেছিলেন ওয়ার্নার হেডেনর ৩৮০ রানের মাইলস্টোন পার করলেই মাঠের দিকে রওনা দেবেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক সেই সুযোগটাই দিলেন না ওয়ার্নার ও লারাকে। তাই ক্রিকেট মহলের একটা বড় অংশর মত লারাও ক্ষুব্ধ। বলছেন, ‘মানছি দল হিসেবে জয় পাওয়াটাই আসল লক্ষ্য। কিন্তু একটা সুযোগ ওর প্রাপ্য ছিল। ইনিংস ডিক্লেয়ার করার আগে অস্ট্রেলিয়ার মিট ম্যানেজমেন্ট বলতে পারত টি পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে, চেষ্টা করে দেখ রেকর্ড করা যায় কি না? কিন্তু সেই সুযোগটাই ওকে দেওয়া হল না।’ ক্ষোভ ঝড়ে পরল ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন অধিনায়কের গলায়। 

আরও পড়ুন - অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা ১৪ টেস্টে হার, লজ্জার রেকর্ড গড়ে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান

টেস্ট ক্রিকেট ব্যক্তিগত রানের মাইলস্টোন একবার দুবার গড়েছেন লারা। ১৯৯৪ সালে স্যার গ্যারি সোবার্সের ৩৬৫ রানের রেকর্ড ভেঙে ৩৭৫ রান করেছিলেন লারা। সেই রেকর্ড ভেঙে ৩৮০ রান করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি ওপেনার ম্যাথু হেডেন। ১০ বছর পর ২০০৪ সালে আবার নতুন ইতিহাস লেখেন লারা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪০০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ। এবার ওয়ার্নারের সামনে সেই রেকর্ড ভেঙে টেস্টে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেটা হল না। মাত্র আড়াই দিনে শেষ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান অ্যাডিলেড টেস্ট। এই পরিংখ্যান দেখে আরও চটে উঠছেন ক্রিকেট পন্ডিতরা। তাঁদের মতে বাকি আড়াই দিন খেলাই হল না। তাই ওয়ার্নাকে আর এক ঘন্টা ব্যাটিং করার সুযোগ দিলে জয়ের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা তৈরি হত? একই রকম হতাশা লারার গলাতেও। বলছেন রেকর্ড যে তৈরি হয় ভাঙার জন্য। এবার না পারলেও আগামী দিনে ওয়ার্নার তাঁর রেকর্ড ভাঙতে পারবে। এমনই আশা ব্রায়ান লারার। 

আরও পড়ুন - রবিবার দলকে করলেন চ্যাম্পিয়ন, সোমবার বিয়ের পিঁড়িতে ভারতীয় ক্রিকেটার